Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘মুখ্যমন্ত্রী গণতন্ত্রকে বিপদে ফেলতে পারেন না’! ইডির আই-প্যাক মামলা নিয়ে মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
‘মুখ্যমন্ত্রী গণতন্ত্রকে বিপদে ফেলতে পারেন না’! ইডির আই-প্যাক মামলা নিয়ে মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের
প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সুপ্রিম কোর্টে জোর আইনি টক্কর কেন্দ্র ও রাজ্যের। প্রেক্ষাপট - এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর দায়ের করা আই-প্যাক সংক্রান্ত একটি মামলা। যার বৈধতা নিয়েই বুধবার বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে চলল দীর্ঘ সওয়াল-জবাব। শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের জায়গায় ঢুকে পড়ে গণতন্ত্রকে বিপদে ফেলতে পারেন না।”


রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি দাবি করেন, সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারায় মামলা করার কোনও মৌলিক অধিকারই ইডির নেই। তাঁর যুক্তি, ১৪, ২১ বা ২২ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো মৌলিক অধিকারগুলি শুধুমাত্র ব্যক্তির জন্য, কোনও সংস্থা বা ইডির মতো সরকারি দফতরের জন্য নয়। সিংভি বলেন, “ইডি নিজে রাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী সংস্থা। তাই তদন্তের সময় কোনও অফিসার এমন অধিকার দাবি করতে পারেন না, যা তাঁর দফতরেরই নেই।”


রাজ্যের অপর আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী ১৯৪৮ সালের সংবিধান সভার বিতর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি বলেন, “মৌলিক অধিকার তৈরি হয়েছিল নাগরিকদের রাষ্ট্রের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই ধারণা বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত। ইডি যদি নিজের অধিকার রক্ষার জন্য ৩২ নম্বর ধারা ব্যবহার করে, তবে রাষ্ট্র নিজেই নিজের বিরুদ্ধে মামলা করছে - যা ঐতিহাসিকভাবে ভুল।” তিনি আরও যোগ করেন, কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধের ক্ষেত্রে ১৩১ নম্বর ধারা প্রযোজ্য হওয়া উচিত, ৩২ নম্বর নয়।


রাজ্যের আইনজীবীদের সওয়ালের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আগে যখন এইসব আইনের রায় দেওয়া হয়েছিল, তখন কেউ ভাবতেই পারেনি যে এমন দিন আসবে, যখন একজন মুখ্যমন্ত্রী নিজে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তে ঢুকে পড়বেন!” তিনি স্পষ্ট জানান, প্রশাসনিক প্রধান হয়ে এমন আচরণ গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।

অন্যদিকে, কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, মামলাটি রাজ্যের প্রতিকূলে যাচ্ছে দেখেই পুরনো দিনের উদাহরণ টেনে তা খারিজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।


ভোটের ঠিক আগে সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী ও ইডির এই সংঘাত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। এই আইনি লড়াইয়ের প্রভাব ভোটে কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার।

বিষয় : Mamata Banerjee Supreme Court of India 2026Election EDVSSTATE ABHISEKMANUSINGHVI

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


‘মুখ্যমন্ত্রী গণতন্ত্রকে বিপদে ফেলতে পারেন না’! ইডির আই-প্যাক মামলা নিয়ে মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সুপ্রিম কোর্টে জোর আইনি টক্কর কেন্দ্র ও রাজ্যের। প্রেক্ষাপট - এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর দায়ের করা আই-প্যাক সংক্রান্ত একটি মামলা। যার বৈধতা নিয়েই বুধবার বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে চলল দীর্ঘ সওয়াল-জবাব। শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের জায়গায় ঢুকে পড়ে গণতন্ত্রকে বিপদে ফেলতে পারেন না।”রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি দাবি করেন, সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারায় মামলা করার কোনও মৌলিক অধিকারই ইডির নেই। তাঁর যুক্তি, ১৪, ২১ বা ২২ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো মৌলিক অধিকারগুলি শুধুমাত্র ব্যক্তির জন্য, কোনও সংস্থা বা ইডির মতো সরকারি দফতরের জন্য নয়। সিংভি বলেন, “ইডি নিজে রাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী সংস্থা। তাই তদন্তের সময় কোনও অফিসার এমন অধিকার দাবি করতে পারেন না, যা তাঁর দফতরেরই নেই।”রাজ্যের অপর আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী ১৯৪৮ সালের সংবিধান সভার বিতর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি বলেন, “মৌলিক অধিকার তৈরি হয়েছিল নাগরিকদের রাষ্ট্রের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই ধারণা বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত। ইডি যদি নিজের অধিকার রক্ষার জন্য ৩২ নম্বর ধারা ব্যবহার করে, তবে রাষ্ট্র নিজেই নিজের বিরুদ্ধে মামলা করছে - যা ঐতিহাসিকভাবে ভুল।” তিনি আরও যোগ করেন, কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধের ক্ষেত্রে ১৩১ নম্বর ধারা প্রযোজ্য হওয়া উচিত, ৩২ নম্বর নয়।রাজ্যের আইনজীবীদের সওয়ালের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আগে যখন এইসব আইনের রায় দেওয়া হয়েছিল, তখন কেউ ভাবতেই পারেনি যে এমন দিন আসবে, যখন একজন মুখ্যমন্ত্রী নিজে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তে ঢুকে পড়বেন!” তিনি স্পষ্ট জানান, প্রশাসনিক প্রধান হয়ে এমন আচরণ গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।অন্যদিকে, কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, মামলাটি রাজ্যের প্রতিকূলে যাচ্ছে দেখেই পুরনো দিনের উদাহরণ টেনে তা খারিজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।ভোটের ঠিক আগে সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী ও ইডির এই সংঘাত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। এই আইনি লড়াইয়ের প্রভাব ভোটে কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার