কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আবহে কলকাতা লাগোয়া উত্তর দমদমে প্রচারে এসে একযোগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শহর কলকাতাকে বেনজির আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, দীর্ঘ বাম ও তৃণমূল শাসনের ফলে তিলোত্তমা আজ তাঁর শ্রী হারিয়ে ‘বস্তির শহরে’ পরিণত হয়েছে। শাহের এই মন্তব্য কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
অমিত শাহ বুধবার অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতে বস্তিগুলিতে অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা করে দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, এই অনুপ্রবেশই শহর কলকাতার আসল চরিত্র বদলে দিচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "শহরকে বস্তিমুক্ত করার কোনও সদিচ্ছা মুখ্যমন্ত্রীর নেই। কারণ তাঁর নজর কেবল ভোটের দিকে।"
আগামী ২৯ এপ্রিল উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতায় ভোটগ্রহণ। সেই দিনটির কথা মাথায় রেখে শাহ কড়া ভাষায় জানান, "ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডারা যেন রাস্তায় বেরোনোর সাহস না দেখায়। বেরোলে তাদের বড় সমস্যায় পড়তে হবে!" ৫ মের পর বাংলায় বিজেপির সরকার গঠিত হলে দমদমের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে শাহ বলেন, মমতার ‘কাটমানি’ সংস্কৃতির জেরে ৬ হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে গিয়েছে। তাঁর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মেট্রোর বিস্তার তিনগুণ করা হবে এবং সিন্ডিকেটরাজ সমূলে বিনাশ করা হবে। পাশাপাশি তিনি ফের একবার দাবি করেন, মমতার একমাত্র লক্ষ্য - তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসানো। কিন্তু শাহের প্রতিশ্রুতি, "বিজেপি এলে বাংলায় জন্মানো, বাংলা ভাষায় কথা বলা কোনও ভূমিপুত্রই মুখ্যমন্ত্রী হবেন।"
রাহুল গান্ধীকে ‘রাহুল বাবা’ বলে কটাক্ষ করে শাহ জানান, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে কংগ্রেসের ভরাডুবি নিশ্চিত। তামিলনাড়ু বা পণ্ডীচেরিতেও তারা দুই অঙ্কের সংখ্যা পেরোতে পারবে না।
ভোটের ঠিক আগে কলকাতার সম্মান ও উন্নয়ন নিয়ে শাহের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান বিধাননগরের মৎস্যজীবী এলাকা থেকে শুরু করে কলকাতার শহুরে ভোটারদের মনে কতটা দাগ কাটে, এখন সেটাই দেখার।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন