Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ভোটের আগেই ৮০০ তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতারের ছক? হাইকোর্টে কমিশনের ‘গোপন তথ্য’ ফাঁস হতেই তুলকালাম!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
ভোটের আগেই ৮০০ তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতারের ছক? হাইকোর্টে কমিশনের ‘গোপন তথ্য’ ফাঁস হতেই তুলকালাম!
FILE IMAGE

কলকাতা: আগামিকাল ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে কলকাতা হাইকোর্টে বেনজির সংঘাতের সাক্ষী থাকল রাজ্য। তৃণমূলের ৮০০ নেতা-কর্মীকে ‘সতর্কতামূলক আটক’ (Preventive Detention) বা গ্রেফতার করার যে পরিকল্পনা কমিশন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তা কেন্দ্র করেই বুধবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল প্রধান বিচারপতির এজলাস। একদিকে যখন কমিশন এই পদক্ষেপকে ‘অবাধ ভোটের অস্ত্র’ বলছে, তখন রাজ্যের পালটা প্রশ্ন, "রাজ্যে কি এমন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে?"


বুধবার শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, অবাধ ও স্বচ্ছ ভোট করানোর জন্য কমিশন যেসব প্রশাসনিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করেছিল, সেই অত্যন্ত গোপন তথ্য তৃণমূলের কাছে পৌঁছাল কীভাবে? তৃণমূলের তরফে জেলাভিত্তিক যে তালিকা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে, তার উৎস কী, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। তাদের দাবি, "স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থেই ‘ট্রাবল মেকার’ বা অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ জরুরি।"


তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে গর্জে উঠে বলেন, "একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কেন দাগি অপরাধীর মতো ‘ট্রাবল মেকার’ বলা হচ্ছে? কমিশন কি মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারে?" রাজ্য সরকারের আইনজীবী কিশোর দত্ত তৃণমূলের দাবিকে সমর্থন করে জানান, প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন তখনই হয় যখন দেশের অখণ্ডতা বা নিরাপত্তা বিপন্ন হয়। বাংলায় এই মুহূর্তে তেমন কোনও পরিস্থিতি নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আইনের কোন পরিভাষায় ‘ট্রাবল মেকার’ শব্দটি আছে?"


কমিশনের যুক্তি, গত নির্বাচনে এ রাজ্যে ব্যাপক হিংসা ও প্রাণহানি হয়েছিল। তাই, এবার আগেভাগেই কড়াকড়ি করা হচ্ছে। বিহারেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাদের। অন্যদিকে, রাজ্য পুলিশের ডিজির আইনজীবী স্পষ্ট জানান, গুরুতর কোনও অপরাধ নথিভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা আইনত সম্ভব নয়। পুলিশ আইন মেনেই কাজ করবে এবং কারও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করবে না।


প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর রায় ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামিকালই প্রথম দফার ভোট। তার আগে আদালতের নির্দেশের উপর নির্ভর করছে ৮০০ জন রাজনৈতিক কর্মীর ভাগ্য।


প্রথম দফার ১৫২টি আসনে এই টানাপড়েনের কী প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার।

বিষয় : WESTBENGAL TMC AssemblyElection2026 PoliticalUpdate ELECTION COMMISSION CalcuttaHighCourt preventiondetention

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ভোটের আগেই ৮০০ তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতারের ছক? হাইকোর্টে কমিশনের ‘গোপন তথ্য’ ফাঁস হতেই তুলকালাম!

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
কলকাতা: আগামিকাল ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে কলকাতা হাইকোর্টে বেনজির সংঘাতের সাক্ষী থাকল রাজ্য। তৃণমূলের ৮০০ নেতা-কর্মীকে ‘সতর্কতামূলক আটক’ (Preventive Detention) বা গ্রেফতার করার যে পরিকল্পনা কমিশন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তা কেন্দ্র করেই বুধবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল প্রধান বিচারপতির এজলাস। একদিকে যখন কমিশন এই পদক্ষেপকে ‘অবাধ ভোটের অস্ত্র’ বলছে, তখন রাজ্যের পালটা প্রশ্ন, "রাজ্যে কি এমন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে?"বুধবার শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, অবাধ ও স্বচ্ছ ভোট করানোর জন্য কমিশন যেসব প্রশাসনিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করেছিল, সেই অত্যন্ত গোপন তথ্য তৃণমূলের কাছে পৌঁছাল কীভাবে? তৃণমূলের তরফে জেলাভিত্তিক যে তালিকা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে, তার উৎস কী, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। তাদের দাবি, "স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থেই ‘ট্রাবল মেকার’ বা অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ জরুরি।"তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে গর্জে উঠে বলেন, "একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কেন দাগি অপরাধীর মতো ‘ট্রাবল মেকার’ বলা হচ্ছে? কমিশন কি মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারে?" রাজ্য সরকারের আইনজীবী কিশোর দত্ত তৃণমূলের দাবিকে সমর্থন করে জানান, প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন তখনই হয় যখন দেশের অখণ্ডতা বা নিরাপত্তা বিপন্ন হয়। বাংলায় এই মুহূর্তে তেমন কোনও পরিস্থিতি নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আইনের কোন পরিভাষায় ‘ট্রাবল মেকার’ শব্দটি আছে?"কমিশনের যুক্তি, গত নির্বাচনে এ রাজ্যে ব্যাপক হিংসা ও প্রাণহানি হয়েছিল। তাই, এবার আগেভাগেই কড়াকড়ি করা হচ্ছে। বিহারেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাদের। অন্যদিকে, রাজ্য পুলিশের ডিজির আইনজীবী স্পষ্ট জানান, গুরুতর কোনও অপরাধ নথিভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা আইনত সম্ভব নয়। পুলিশ আইন মেনেই কাজ করবে এবং কারও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করবে না।প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর রায় ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামিকালই প্রথম দফার ভোট। তার আগে আদালতের নির্দেশের উপর নির্ভর করছে ৮০০ জন রাজনৈতিক কর্মীর ভাগ্য।প্রথম দফার ১৫২টি আসনে এই টানাপড়েনের কী প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার