কলকাতা: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই রেকর্ড গড়ার পথে পশ্চিমবঙ্গ! নবান্ন দখলের এই মহাযুদ্ধে বাংলার ভোটাররা যে উদ্দীপনা দেখালেন, তা দেখে রীতিমতো তাজ্জব গোটা দেশ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা বাজতে না বাজতেই ভোটদানের হারে নয়া ইতিহাস লিখল ১৬টি জেলার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্র। পরিসংখ্যন বলছে, ভোট শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগেই বাংলা ছাপিয়ে গিয়েছে অসম ও পুদুচেরির মতো রাজ্যকেও।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়েছে ৮৯.৯৩ শতাংশ। এই হার ভারতের সংসদীয় ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নজির। এর আগে অসমের বিধানসভা ভোটে ৮৫.৩৮ শতাংশ এবং পুদুচেরিতে ৮৯.৯৩ শতাংশ ভোটদানের রেকর্ড ছিল। বিকেল ৫টাতেই পুদুচেরির সেই সর্বকালীন রেকর্ড স্পর্শ করে ফেলেছে পশ্চিমবঙ্গ। সন্ধ্যা ৬টায় ভোট শেষ হওয়ার পর এই হার ৯০ শতাংশের গণ্ডী অনায়াসেই পার করবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
গত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই ১৫২টি আসনেই গড় ভোটদান ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। কিন্তু, বৃহস্পতিবারের 'পাওয়ার প্লে' পর্বে সেই হিসাব উল্টে-পাল্টে গিয়েছে। বিকেল ৫টার মধ্যেই লোকসভার তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি ভোট পড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে বীরভূম, পূর্ব মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলিতে ভোটদানের হার চোখে পড়ার মতো।
এদিন প্রথম দফাতেই ইভিএম-বন্দি হল একঝাঁক হেভিওয়েট নেতার ভাগ্য। নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী, বহরমপুরের অধীর চৌধুরী, মালদহের মৌসম বেনজির নূর এবং দিলীপ ঘোষের মতো প্রার্থীদের অ্যাসিড টেস্ট ছিল আজ। সব মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার প্রার্থীর ভবিষ্যৎ এখন ইভিএমে বন্দি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিপুল ভোটদান শাসক না কি বিরোধী - কার পালে হাওয়া কাড়বে, তা নিয়ে এখনই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে, যে স্বতঃস্ফূর্ততা বাংলার সাধারণ মানুষ দেখালেন, তা আগামী দফার ভোটগুলির জন্য এক বড়সড় বার্তা দিয়ে রাখল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন