ক্যালিফোর্নিয়া: আরও একবার কর্মী ছাঁটাইয়ের কোপ মেটা-এ! কৃত্রিম মেধা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর দাপটে এবার কাজ হারাতে চলেছেন মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা মেটা-র প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী। বৃহস্পতিবার সংস্থার পক্ষ থেকে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ মেমোয় এই দুঃসংবাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরাসরি প্রভাবিত হবেন প্রায় ৮,০০০ কর্মী।
সংস্থার চিফ পিপল অফিসার জ্যানেল গেল মেমোয় স্পষ্ট জানিয়েছেন, মেটা বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে। এই বিশাল ব্যয়ের ঘাটতি পূরণ এবং সংস্থার কর্মদক্ষতা বাড়াতেই কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন প্রযুক্তির আগমনে পুরনো মানব সম্পদে কাটছাঁট করতে চাইছে এই টেক জায়ান্ট।
মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ২০ মে থেকে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া কার্যকর হবে। শুধু তাই নয়, নতুন করে যে ৬,০০০ শূন্যপদে নিয়োগের পরিকল্পনা ছিল, তাও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
চলতি বছর শুরু থেকেই মেটার অন্দরে ছাঁটাইয়ের আতঙ্ক তাড়া করছিল কর্মীদের। ইতিমধ্যেই ‘রিয়্যালিটি ল্যাবস’-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ থেকে কর্মী সরানো হয়েছে। জুকেরবার্গ চাইছেন, কর্মীরা কোডিং থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজে আরও বেশি করে এআই ব্যবহার করুন। আর, এই এআই-নির্ভর পরিকাঠামো গড়তে গিয়েই টান পড়ছে কর্মীদের বেতনে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর মেটা ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব এবং ৬ হাজার কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। তা সত্ত্বেও এআই প্রতিযোগিতায় নিজেদের শীর্ষস্থানে রাখতে কর্মীদের বলি দিচ্ছে সংস্থাটি। উল্লেখ্য, ২০২২ এবং ২০২৩ সালেও পুনর্গঠনের নামে প্রায় ২১,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করেছিল মেটা।
কেবল মেটা নয়, এআই-এর প্রভাবে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে মাইক্রোসফটও। তারা ইতিমধ্যেই হাজার-হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় অবসরের প্রস্তাব দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে এখন আতঙ্কের অপর নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা'।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন