কলকাতা: ভোটের আবহে বঙ্গ রাজনীতিতে বিরাট চমক! বালুরঘাটের বিদায়ী বিধায়ক তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়িকে বড়সড় উপহার দিল কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার! জল্পনা সত্যি করে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান পদে বসানো হল তাঁকে। শুক্রবারই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলার আরও এক নক্ষত্র, প্রখ্যাত বিজ্ঞানী গোবর্ধন দাসকেও নীতি আয়োগের পূর্ণ সময়ের সদস্য হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বালুরঘাট কেন্দ্র থেকে অশোক লাহিড়িকে আর টিকিট দেয়নি বিজেপি। তখন থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছিল, তবে কি ব্রাত্য হয়ে পড়লেন এই হেভিওয়েট অর্থনীতিবিদ? কিন্তু, দলের ইস্তেহার কমিটির আহ্বায়ক করার পরই ইঙ্গিত মিলেছিল - অশোকের জন্য বড় কোনও পরিকল্পনা রয়েছে দিল্লির। অবশেষে সুমন বেরিকে সরিয়ে নীতি আয়োগের শীর্ষ পদে বসানো হল তাঁকে।
অশোক লাহিড়ি কেবল একজন রাজনীতিক নন। বরং, দেশের প্রথম সারির অর্থনীতিবিদদের একজন। তাঁর বর্ণময় কেরিয়ারে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের পালক। যেমন - ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ভারত সরকারের দ্বাদশ প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ভারতের পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সদস্যও ছিলেন। পাশাপাশি, বিশ্ব ব্যাংক এবং আইএমএফ-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ২০২১ সালে প্রথমবার বালুরঘাট থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন অশোক লাহিড়ি।
অশোক লাহিড়ির পাশাপাশি নজর কেড়েছেন বিজ্ঞানী গোবর্ধন দাসও। আইআইএসইআর ভোপাল-এর ডিরেক্টর তথা বিশিষ্ট এই বিজ্ঞানীকেও নীতি আয়োগের সদস্য করা হয়েছে। ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আগে দুই বাঙালিকে দেশের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণকারী সংস্থায় জায়গা দিয়ে বিজেপি মাস্টারস্ট্রোক দিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অশোক লাহিড়ির মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে নীতি আয়োগের দায়িত্বে আনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'বিকশিত ভারত' এজেন্ডা আরও পোক্ত করবে। অন্যদিকে, টিকিট না পাওয়া নিয়ে যে চাপা অসন্তোষ দানা বাঁধছিল, এই বড় নিয়োগের মাধ্যমে তাতেও ইতি টানল গেরুয়া শিবির।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন