জঙ্গিপুর: মাঝরাতে ঘুটঘুটে অন্ধকার স্ট্রংরুম, বন্ধ সিসিটিভি ক্যামেরা! আর, এই দৃশ্য দেখেই মেজাজ হারালেন সাগরদিঘির বিধায়ক তথা এবারের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস। শুক্রবার গভীর রাতে জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজের স্ট্রংরুম চত্বরে তৈরি হল নজিরবিহীন উত্তেজনা। সিসিটিভি বিভ্রাট নিয়ে সরাসরি ‘দিল্লির চক্রান্ত’ এবং পরাজয়ের আশঙ্কার কথা শুনিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিলেন তিনি।
অভিযোগ উঠেছে, শুক্রবার গভীর রাতে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল স্ট্রংরুমের সিসিটিভি ক্যামেরা এবং আলো। খবর পাওয়া মাত্রই ভোররাতে অনুগামীদের নিয়ে পলিটেকনিক কলেজে পৌঁছে যান বায়রন বিশ্বাস। সেখানে পৌঁছে প্রশাসনিক আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে এদিন অত্যন্ত হতাশ শোনায় বিধায়ককে। তিনি সাফ বলেন, "গভীর রাতে কেন ক্যামেরা আর আলো বন্ধ হবে? এটা কোনও টেকনিক্যাল ফল্ট নয়। এটা সরাসরি দিল্লির ফল্ট (চাল)। আমি হারছি, জঙ্গিপুরে জাকির সাহেব হারছেন, সামশেরগঞ্জে নূর আলম, ফরাক্কাও হারছে। আমাদের হারানোর জন্যই এই চক্রান্ত করা হচ্ছে।" বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সাফাই উড়িয়ে দিয়ে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, "আমার বাড়িতে জেনারেটর চালালে এক মিনিটে আলো আসে। এখানে ১৭ মিনিট সময় লাগে কেন?"
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জঙ্গিপুরের মহকুমাশাসক সুধীরকুমার রেড্ডি। তাঁর পাল্টা দাবি, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সিসিটিভির ওয়াই-ফাই সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। প্রার্থী রাত দু’টোর সময় স্ট্রংরুমের ভিতরে ঢোকার দাবি জানিয়েছিলেন, যা নিয়মবিরুদ্ধ। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে স্ট্রংরুমের বাইরেও বাড়তি সিসিটিভি লাগানো হয়েছে।
ভোট পরবর্তী এই ‘স্ট্রংরুম নাটক’ ঘিরে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তৃণমূল বিধায়কের নিজের হার মেনে নেওয়ার মতো মন্তব্য এবং প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে কমিশন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার। ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বায়রন বিশ্বাস।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন