২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ২৮ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস অত্যন্ত হতাশ গলায় বলছেন যে, তিনি সহ জঙ্গিপুর, সামসেরগঞ্জ ও ফারাক্কার তৃণমূল প্রার্থীরা হারছেন। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য থেকে শুরু করে রাজ্য বিজেপির অফিশিয়াল হ্যান্ডেল থেকে এই ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হয় যে, ফল প্রকাশের আগেই পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে শাসকদল। বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমেও এই নিয়ে চর্চা শুরু হলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন সত্য।
অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে, বায়রন বিশ্বাসের ওই ভিডিওটি আসলে ‘আউট অফ কনটেক্সট’ বা প্রেক্ষাপটহীন এবং অত্যন্ত সুচতুরভাবে সম্পাদিত (Edited)। প্রকৃতপক্ষে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার সময় বায়রন অভিযোগ করেছিলেন যে, যদি নির্বাচন ব্যবস্থা স্বচ্ছ না থাকে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উদাসীনতা বজায় থাকে, তবেই তাঁদের পরাজয়ের আশঙ্কা রয়েছে। সেই দীর্ঘ বক্তব্যের মাঝখানের বিশেষ কিছু অংশ কেটে নিয়ে এমনভাবে জোড়া হয়েছে যাতে মনে হয় তিনি পরাজয় মেনে নিচ্ছেন। এই তথ্য সামনে আসতেই বিজেপি-র বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বায়রন বিশ্বাস। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তৃণমূল ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বিষয়টি নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে রাজি না হলেও একাংশের মতে, বায়রনের মতো নেতার রাগের মাথায় বলা এমন আলটপকা মন্তব্য বিরোধীদের হাতে অযথা অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। নির্বাচনের আবহে এই ধরনের ‘ডিপফেক’ বা এডিট করা ভিডিওর ব্যবহার ভোটারদের প্রভাবিত করার এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিজিটাল যুগে কেবল একটি ছোট ক্লিপ দেখে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বায়রন বিশ্বাসের এই ঘটনাটি তার জলজ্যান্ত উদাহরণ।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন