রাজ্যে দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ ভোটের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এক আইপিএস অফিসার। উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত অজয় পাল শর্মা বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিতর্কের মুখে পড়েছেন ২০১১ সালের এই দুঁদে অফিসার।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তাঁর বেশ কিছু ভিডিও পোস্ট করে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। একটি ভিডিওতে তাঁকে চটুল গানে নাচতে দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে মহুয়ার তীব্র কটাক্ষ— “ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি বাবুয়া... ফান্টা স্টাইলে ফুর্তি করছেন দেখে ভালো লাগছে, তবে মনে রাখবেন বাংলায় সবসময় তৃণমূল।” এই বিতর্কে ঘি ঢেলেছেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদবও।
উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এই আচরণকে ‘লজ্জাজনক’ বলে তোপ দেগে জানিয়েছেন, এটি বিজেপির অনুগামী মহলের মহিলাদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনেরই নামান্তর।
বিতর্কের সূত্রপাত কেবল ভিডিওতে নয়, বরং সোমবার ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে অজয় পাল শর্মার হানাকে কেন্দ্র করেও। সেখানে উপস্থিত লোকজনকে তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। শাসক দল তৃণমূলের প্রশ্ন, একজন পুলিশ পর্যবেক্ষক কি এভাবে প্রার্থীর বাড়িতে ঢুকে হুমকি দিতে পারেন? পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে জাহাঙ্গির খান বলেছেন, “উনি সিংঘম হলে আমরাও এক একজন পুষ্পা, মাথা নত করব না।” লুধিয়ানার ভূমিপুত্র পেশায় দন্ত চিকিৎসক অজয় পাল শর্মার কেরিয়ারে ১০০-র বেশি এনকাউন্টারের ইতিহাস রয়েছে।
এমন একজন ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’কে কেন বাংলার স্পর্শকাতর জেলায় আনা হলো, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে তৃণমূল। তাঁদের অভিযোগ, কমিশন কি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নিল? ২৯ এপ্রিলের ভোটের আগে এই ‘সিংঘম’ বনাম ‘পুষ্পা’ লড়াই বাংলার নির্বাচনী পারদকে পৌঁছে দিয়েছে চরম শিখরে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন