ভবানীপুরের ভোটের উত্তাপ এবার চরমে পৌঁছালো খোদ কালীঘাটে। বুধবার সকালে জয়হিন্দ ভবনের সামনে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে ‘চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন একদল বিক্ষোভকারী। স্লোগান শুনেই মেজাজ হারান শুভেন্দু; গাড়ি থেকে নেমে বিক্ষোভকারীদের দিকে রীতিমতো দৌড়ে যান তিনি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তৎক্ষণাৎ ফোন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ডাকেন তিনি।
পাল্টা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরাও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত তৃণমূল কাউন্সিলর তথা মমতার ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, “শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছিল, কিন্তু শুভেন্দুর উস্কানিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করেছে। কমিশন সব দেখেও নিরুত্তাপ।”
ভবানীপুরের এই টানটান উত্তেজনার মাঝেই শুভেন্দু অধিকারীকে ফোন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সূত্রের খবর, এলাকার ভোট পরিস্থিতি এবং শুভেন্দুর ওপর হওয়া বিক্ষোভের খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি। যদিও শুভেন্দু নিজে এই সমস্ত বিক্ষোভকে পাত্তা দিতে নারাজ। চক্রবেড়িয়ায় দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, ২৬৭টি বুথেই বিজেপির এজেন্ট রয়েছে এবং ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। মমতার অভিযোগের পাল্টা জবাবে শুভেন্দু বলেন, “সকাল সকাল প্রার্থীর রাস্তায় বেরিয়ে পড়া আসলে হতাশার বহিঃপ্রকাশ।”
অন্যদিকে, ভাঙড়ের প্রাণগঞ্জ এলাকাও আজ উত্তাল হয়ে ওঠে। আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকিকে ঘিরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। নওশাদ নিজেই তেড়ে যান বিক্ষোভকারীদের দিকে। তাঁর দাবি, তৃণমূল কর্মীরা ভোট চুরি করতে এসেছিল, তাই তাদের তাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইএসএফ ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা। তিনি নওশাদকে ‘বদ্ধ পাগল’ বলে কটাক্ষ করেন। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটে ভবানীপুর থেকে ভাঙড়— সর্বত্রই সম্মুখ সমরে যুযুধান পক্ষগুলো।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন