কলকাতা: ভারতীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বস্তুর নাম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম (EVM)। কারচুপি থেকে হ্যাকিং— ইভিএম ঘিরে রাজনৈতিক মহলে অভিযোগের অন্ত নেই। কিন্তু ভোটগ্রহণ পর্ব মিটে যাওয়ার পর বা ফল ঘোষণার শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রগুলির ভাগ্যে ঠিক কী ঘটে? কীভাবে এবং কতটা নিরাপত্তায় সেগুলোকে আগলে রাখা হয়, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটপর্ব মেটার পর ইভিএমগুলি কড়া নিরাপত্তায় সিল করা হয় এবং স্ট্রং রুমে পাঠানো হয়। সেখান থেকে যায় সরাসরি গণনাকেন্দ্রে। কিন্তু গণনার কাজ শেষ হলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। কমিশনের এক আধিকারিকের মতে, ফল প্রকাশের পরবর্তী ৪৫ দিন পর্যন্ত ইভিএমগুলি অত্যন্ত সযত্নে এবং একইরকম কড়া পাহারায় রাখা হয়। কারণ, ওই ৪৫ দিনের মধ্যে যেকোনও প্রার্থী আইনি পথে ভোট পুনর্গণনার আবেদন জানাতে পারেন। এই সময়কাল অতিক্রান্ত হওয়ার পর আর সেই সুযোগ থাকে না।
এই ‘কুলিং-অফ পিরিয়ড’ বা বাধ্যতামূলক সময়সীমা পার হওয়ার পর ইভিএমগুলি চলে যায় জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে। সেখানে ট্রেজারিতে দ্বিগুণ তালাবন্ধ ঘরে রাখা হয় সেগুলি। ঘরের ভিতর সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি এবং বাইরে সশস্ত্র পাহারা থাকে। পরবর্তী নির্বাচন না আসা পর্যন্ত এই ইভিএমগুলি একপ্রকার অকেজো হয়েই পড়ে থাকে। তবে, সময়-সময় সেগুলির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
নতুন নির্বাচন ঘোষণার পর ইভিএমগুলিকে ফের বের করা হয়। তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সামনে সেগুলির যান্ত্রিক স্বচ্ছতা পরীক্ষা বা ‘মক পোল’ করানো হয়। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকলে প্রয়োজনে ইভিএম তাঁদের কার্যালয়ে পাঠিয়েও পরীক্ষা করানো হতে পারে। এরপর ফের প্রশাসনের কঠোর তত্ত্বাবধানে সেগুলো চলে যায় নির্দিষ্ট বিধানসভাভিত্তিক নির্বাচনী আধিকারিকদের দফতরে। অর্থাৎ, ভোট আসুক বা যাক— গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার এই ‘নির্ণায়ক’ যন্ত্রটিকে ঘিরে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ থাকে বছরভর।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন