গাজা: আন্তর্জাতিক মহলের চাপে গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে সংঘর্ষবিরতি ঘোষিত হলেও রক্তপাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। বুধবার ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) দাবি করেছে, গাজা শহরে একটি নিখুঁত ড্রোন হামলা চালিয়ে তারা হামাসের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের অপারেশন প্রধান আয়াদ আহমেদ আবদ আল-রহমান শামারিকে খতম করেছে। এই শীর্ষ নেতার মৃত্যুতে প্যালেস্তাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী বিদ্রোহী হামাস বড়সড় ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে।
ইজরায়েলি সেনাবাহিনী সূত্রে খবর, গাজা শহরের পশ্চিম প্রান্তের আল-রিমাল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। ড্রোন হামলায় শামারি ছাড়াও তাঁর ছেলে সালাহ এবং আরও দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়া, এই হামলায় অন্তত ছ’জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আইডিএফ-এর দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হওয়া ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং অনুপ্রবেশের প্রধান পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’দের মধ্যে অন্যতম ছিল এই শামারি। হামাসের সমস্ত গোপন অপারেশন ও গোয়েন্দা কার্যকলাপের মূল নিয়ন্ত্রণ ছিল তাঁরই হাতে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ অক্টোবর গাজায় সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি, নামমাত্র এই বিরতির পর থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮১৮ জন সাধারণ নাগরিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠী সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘও এই ক্রমবর্ধমান মৃত্যুমিছিল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইজরায়েলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, হামাসের সামরিক পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত তারা এই ধরনের অভিযান চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে হামাসও পালটা প্রতিরোধের হুমকি দিয়ে আসছে। এই দ্বিপাক্ষিক সংঘাতে পিষ্ট হচ্ছে গাজার সাধারণ মানুষ। শামারির মতো শীর্ষ গোয়েন্দা কর্তার মৃত্যুতে হামাস যে কিছুটা হলেও কৌশলগতভাবে দুর্বল হবে, তা স্পষ্ট। তবে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর যে প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক স্তরে চলছে, এদিনের ঘটনা তাতে নতুন করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন