দুবাই: বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা আর তেলের বাজারে চরম অস্থিরতার মাঝেই এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE)। ১ মে থেকে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির শক্তিশালী গোষ্ঠী OPEC এবং OPEC+ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করল তারা। আমিরশাহীর এই পদক্ষেপে বিশ্ব রাজনীতি এবং তেলের বাজারে বড়সড় সুনামি আসতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
১৯৬০ সালে গঠিত OPEC গোষ্ঠীর অন্যতম স্তম্ভ ছিল আমিরশাহী। সারাবিশ্বে অশোধিত তেলের মোট উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশই আসে এই দেশ থেকে। এতদিন OPEC-এর বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল উৎপাদন বা রফতানি করতে পারত না তারা। কিন্তু, আমিরশাহীর লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে প্রতিদিন ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করা। নিজেদের এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সফল করতেই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটল দুবাই।
ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে যখন তেলের সাপ্লাই নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময়েই এই বিচ্ছেদ OPEC-এর জন্য বড় ধাক্কা। সৌদি আরব এবং রাশিয়ার মতো দেশগুলি যখন জোগান কমিয়ে তেলের দাম চড়া রাখতে চাইছে, তখন আমিরশাহী চাইছে উৎপাদন বাড়িয়ে বাজার দখল করতে এবং বেশি রাজস্ব আদায় করতে।
বিশ্বের অন্যতম তেল আমদানিকারী দেশ হিসাবে ভারতের জন্য এই খবরটি একই সাথে স্বস্তি এবং উদ্বেগের। কারণ, একদিকে - আমিরশাহীর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়লে সাময়িকভাবে তেলের দাম চড়তে পারে। যার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে। অন্যদিকে - দীর্ঘমেয়াদে যদি আমিরশাহী স্বাধীনভাবে উৎপাদন বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে তেলের জোগান বাড়িয়ে দেয়, তাহলে তেলের দাম অনেকটাই কমতে পারে। এর ফলে ভারতের আমদানি খরচ কমবে এবং জিনিসপত্রের দামও নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর এই সিদ্ধান্ত কি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির জোটে ফাটল ধরাবে? নাকি ভারত-সহ উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য জ্বালানি সস্তা হওয়ার পথ প্রশস্ত করবে? উত্তর লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের গর্ভেই।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন