কেওনঝড়: ওড়িশার কেওনঝড়ের দিয়ানালি গ্রামে দিদির কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে এক ব্যক্তির ব্যাঙ্কে হাজির হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। এবার সেই ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তের চরম অমানবিক সিসিটিভি ফুটেজ এল প্রকাশ্যে। গত সোমবার ব্যাঙ্কের ভিতর ঠিক কী ঘটেছিল জিতু মুন্ডার সঙ্গে? কেন তিনি বাধ্য হলেন কবর খুঁড়ে কঙ্কাল বের করতে? মিলল চাঞ্চল্যকর উত্তর।
তদন্তকারীরা ব্যাঙ্কের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানতে পেরেছেন, ঘটনার দিন সকাল ১১টা ২৬ মিনিটে ব্যাঙ্কে ঢুকেছিলেন জিতু। সেখানে তিনি প্রায় ৩২ মিনিট ছিলেন। দিদির অ্যাকাউন্টে থাকা মাত্র ১৯,৩০০ টাকা তোলার জন্য তিনি ব্যাঙ্কের ম্যানেজার থেকে শুরু করে কর্মীদের হাতে-পায়ে ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু, নিয়মের দোহাই দিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সকাল ১১টা ৫৮ মিনিটে তিনি ব্যাঙ্ক থেকে বেরিয়ে যান।
রাজস্ব দফতরের বিভাগীয় কমিশনার সংগ্রামকেশরী মহাপাত্র ঘটনার তদন্তে নেমে ব্যাঙ্কের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। তিনি জানিয়েছেন, ভিডিয়োয় শব্দ না থাকলেও জিতুর শরীরী ভাষা বুঝিয়ে দিচ্ছিল - তিনি কতটা অসহায় বোধ করছিলেন! তদন্তে উঠে এসেছে আরও কিছু বিস্ফোরক তথ্য। যেমন - জিতু ও তাঁর দিদি এর আগে অন্তত আটবার ওই ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন। ফলে কর্মীরা তাঁদের চিনতেন। দিদির মৃত্যুর শংসাপত্র বা বৈধ উত্তরাধিকার নথি না থাকায় ম্যানেজার তাঁকে টাকা দিতে অস্বীকার করেন এবং এক পর্যায়ে ব্যাঙ্ক থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন! নিরক্ষর না হলেও ব্যাঙ্কিং নিয়ম সম্পর্কে অবগত ছিলেন না জিতু।
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তকারী আধিকারিক সংগ্রামকেশরী মহাপাত্র এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও কেন একজন অসহায় মানুষকে এভাবে ফেরানো হল, তা নিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এখন প্রশ্নের মুখে।
তদন্ত বলছে, একান্ত অসহায় হয়েই জিতু কবর খুঁড়ে দিদির কঙ্কাল ব্যাঙ্কে নিয়ে আসার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেন! যাতে তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে তাঁর দিদি আর বেঁচে নেই। এই মর্মান্তিক ঘটনা ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সংবেদনশীলতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন