নয়াদিল্লি: ভারতীয় বিমা বাজারে বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটল কেন্দ্র। শনিবার এক ঐতিহাসিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিমা সংস্থাগুলিতে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে (FDI) ছাড়পত্র দিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেটেই এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এবার তাতে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়ল।
শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক প্রসার বিভাগ (DPIIT) জানিয়েছে, এখন থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা 'অটোমেটিক রুট'-এর মাধ্যমে সরাসরি ভারতীয় বিমা সংস্থায় ১০০ শতাংশ পুঁজি ঢালতে পারবেন। তবে, এর জন্য বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা IRDAI-এর কড়া ভেরিফিকেশন ও ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। সরকারের এই সিদ্ধান্ত 'সবকা বিমা সবকি রক্ষা' সংশোধিত বিমা আইন, ২০২৫ মেনেই নেওয়া হয়েছে।
বিমা ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগের সীমা বাড়লেও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন বা LIC-এর ক্ষেত্রে বড় কোনও রদবদল হচ্ছে না। কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এলআইসিতে বিদেশি বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা আগের মতোই ২০ শতাংশে বজায় থাকবে। ফলে বিদেশি পুঁজির ঢল নামলেও রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থার ভারতীয় পরিচয় ও কাঠামোর উপর বড় কোনও প্রভাব পড়ছে না।
বিমা ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বিদেশি মালিকানার সুযোগ থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে কেন্দ্র। যেমন - ১) সংশ্লিষ্ট সংস্থায় অন্তত একজন ভারতীয় নাগরিককে চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা CEO পদে থাকতে হবে। ২) বিদেশি শেয়ার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের FEMA নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের বিমা ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ বিদেশি পুঁজি ও উন্নত প্রযুক্তি আসবে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিষেবার মান বাড়বে, তেমনই নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বেসরকারি বিমা সংস্থাগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়লে সাধারণ গ্রাহকরা আরও কম প্রিমিয়ামে উন্নত বিমা কভারেজ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন