জবলপুর: ৩ মে, ২০২৬: নর্মদা নদীতে ভয়াবহ ক্রুজডুবির ঘটনায় ১১ জনের প্রাণহানির পর এবার মুখ খুললেন ক্রুজচালক মহেশ পটেল। ১৫ বছরের কর্মজীবনে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাঁর আগে কখনও হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর মতে, গত বৃহস্পতিবারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী ‘প্রকৃতির তাণ্ডব’।
মহেশ জানিয়েছেন, ঝড়ের গতি এতটাই বেশি ছিল যে তীর থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে থাকা সত্ত্বেও তিনি ক্রুজটিকে পাড়ের দিকে ঘোরাতে পারেননি। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছিল জানলার কাচে, এমনকি জল ঢুকে পড়েছিল ইঞ্জিন রুমেও। সেই সময় বারবার হোটেলের হেল্প ডেস্কে ফোন করে উদ্ধারকারী নৌকা পাঠানোর অনুরোধ জানালেও সময়মতো সাহায্য মেলেনি বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
চালকের দাবি, সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড়সড় গাফিলতি ছিল পর্যটকদের তরফেও। তিনি জানান, বিপদের আঁচ পেয়ে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরতে বলা হলেও তাঁরা তাতে কর্ণপাত করেননি। বরং ঝড়ের মধ্যেই ক্রুজের ওপর নাচ-গান ও হুল্লোড়ে মত্ত ছিলেন অনেকে। মহেশ আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন— নিয়ম অনুযায়ী ক্রুজে চালক ছাড়াও দু’জন কর্মী থাকার কথা, কিন্তু দুর্ঘটনার দিন ছিলেন মাত্র একজন।
তাঁর দাবি, যদি আরও একজন কর্মী থাকতেন এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ সময়মতো নৌকা পাঠাত, তবে হয়তো অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো। বর্তমানে পুলিশ ও প্রশাসন গোটা ঘটনার তদন্ত করছে, তবে চালকের এই বয়ান দুর্ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন