উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত দুর্গ হিসেবে পরিচিত, কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সেই দুর্গ যেন এক দুর্ভেদ্য প্রাচীরে পরিণত হলো। সোমবার সকাল থেকেই পোস্টাল ব্যালট গণনার শুরু থেকে যে অগ্রগমন শুরু হয়েছিল, বেলা গড়াতেই তা কার্যত ঝড়ে পরিণত হয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে ৩৪টি আসন পেয়েছিল বিজেপি, কিন্তু প্রাথমিক ট্রেন্ড বলছে এবার সেই সংখ্যা ৪০ পেরিয়ে যাওয়ার পথে। চা-বলয়ের ২২টি আসনের প্রতিটিতেই পদ্ম শিবিরের প্রার্থীরা বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন, যা আলিমুদ্দিন বা কালীঘাটের জন্য বড় দুঃসংবাদ। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের অলিগলিতে এখন শুধুই উড়ছে গেরুয়া আবির; দলের পতাকা নিয়ে রাস্তায় নেমে উচ্ছ্বাসে মেতেছেন কর্মী-সমর্থকরা।
শিলিগুড়ির হেভিওয়েট প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ থেকে শুরু করে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির শিখা চট্টোপাধ্যায়— উত্তরবঙ্গের প্রায় সব কেন্দ্রেই বিজেপি প্রার্থীদের লিড আকাশছোঁয়া। শঙ্কর ঘোষ ইতিমধ্যেই ৩২ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে থেকে জয়ের সুবাস পাচ্ছেন, অন্যদিকে আনন্দময় বর্মণ ও শিখা চট্টোপাধ্যায়ও ২০ থেকে ২৩ হাজার ভোটের ব্যবধান বজায় রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের লাগাতার প্রচার এবং জঙ্গলমহল থেকে পাহাড় পর্যন্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিশেষ নজর যে বৃথা যায়নি, তা ইভিএমের ফলই বলে দিচ্ছে। বিজেপি শিবিরের দাবি, উত্তরবঙ্গের এই অভাবনীয় ফলাফলই তাঁদের নবান্নের সিংহাসনের দিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিল। চা-বাগানের শ্রমিক থেকে শুরু করে শহরের ভোটার— সকলের রায়ই যেন এবার বলছে, ‘পাহাড়-সমতল সবটাই গেরুয়া’।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন