Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

নবান্নে এবার গেরুয়া নিশান! মেরুকরণ না কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা— কোন জাদুবলে বাংলা জয় করল বিজেপি?

নবান্নে এবার গেরুয়া নিশান! মেরুকরণ না কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা— কোন জাদুবলে বাংলা জয় করল বিজেপি?
প্রতীকী ছবি

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে ১৫ বছর পর এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ঘটে গেল। যে তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্যকে একসময় অজেয় মনে করা হচ্ছিল, সেই মিথ ভেঙে দিয়ে প্রায় দুই শতাধিক আসন নিয়ে নবান্নের মসনদে বসতে চলেছে বিজেপি। কিন্তু কোন ম্যাজিকে সম্ভব হলো এই পালাবদল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে একাধিক সুপরিকল্পিত কৌশল।


 একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রচার আর অনুপ্রবেশের জুজু দেখিয়ে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে এককাট্টা করা, অন্যদিকে ‘বেকারত্ব’ ও ‘নিয়োগ দুর্নীতি’র মতো ইস্যুকে হাতিয়ার করে তীব্র প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়াকে কাজে লাগানো— এই দুইয়ের মিশেলে ঘাসফুল শিবিরকে কার্যত কোণঠাসা করে দিয়েছে গেরুয়া বাহিনী। ২০২১-এর ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং স্থানীয় ইস্যু আর তৃণমূলের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে সামনে রেখে লড়াই করেছে বিজেপি। বহিরাগত তকমা ঝেড়ে ফেলতে শমীক ভট্টাচার্যের মতো বাঙালি মুখকে সামনে আনা বা জয় মা কালী স্লোগান তুলে ‘বাঙালিয়ানা’র ছোঁয়া দেওয়াও ছিল মাস্টারস্ট্রোক।


তবে এই জয়ের নেপথ্যে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নির্বাচন কমিশন এবং SIR (Systemic Identification & Removal) ফ্যাক্টর। তৃণমূলের অভিযোগ, লক্ষ লক্ষ ভোটাধিকার বাতিল করে এবং শাসকদলের ভোট মেশিনারিকে পঙ্গু করে দিয়ে কমিশন আসলে বিজেপিকেই সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, পরিবর্তনের এক তীব্র চোরাস্রোত রাজ্যজুড়ে বইছিল, যেখানে তথাকথিত ‘ফ্লোটিং ভোটার’রা সরাসরি তৃণমূলের দাপট আর সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। এমনকি তৃণমূলের তুরুপের তাস ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা হিসেবে বিজেপির আরও বড় ভাতার প্রতিশ্রুতিও গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে সফল হয়েছে। সব মিলিয়ে, বাংলার চিরাচরিত ‘অস্মিতা’র রাজনীতির ওপর এবার ধর্মীয় মেরুকরণ আর পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা জয়ী হলো, যার হাত ধরে নবান্নে শুরু হতে চলেছে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।

বিষয় : Mamata Banerjee Narendra Modi politicalshift BJPWINNININGBENGAL BENGALRESULTS

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


নবান্নে এবার গেরুয়া নিশান! মেরুকরণ না কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা— কোন জাদুবলে বাংলা জয় করল বিজেপি?

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image
বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে ১৫ বছর পর এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ঘটে গেল। যে তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্যকে একসময় অজেয় মনে করা হচ্ছিল, সেই মিথ ভেঙে দিয়ে প্রায় দুই শতাধিক আসন নিয়ে নবান্নের মসনদে বসতে চলেছে বিজেপি। কিন্তু কোন ম্যাজিকে সম্ভব হলো এই পালাবদল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে একাধিক সুপরিকল্পিত কৌশল। একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রচার আর অনুপ্রবেশের জুজু দেখিয়ে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে এককাট্টা করা, অন্যদিকে ‘বেকারত্ব’ ও ‘নিয়োগ দুর্নীতি’র মতো ইস্যুকে হাতিয়ার করে তীব্র প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়াকে কাজে লাগানো— এই দুইয়ের মিশেলে ঘাসফুল শিবিরকে কার্যত কোণঠাসা করে দিয়েছে গেরুয়া বাহিনী। ২০২১-এর ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং স্থানীয় ইস্যু আর তৃণমূলের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে সামনে রেখে লড়াই করেছে বিজেপি। বহিরাগত তকমা ঝেড়ে ফেলতে শমীক ভট্টাচার্যের মতো বাঙালি মুখকে সামনে আনা বা জয় মা কালী স্লোগান তুলে ‘বাঙালিয়ানা’র ছোঁয়া দেওয়াও ছিল মাস্টারস্ট্রোক।তবে এই জয়ের নেপথ্যে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নির্বাচন কমিশন এবং SIR (Systemic Identification & Removal) ফ্যাক্টর। তৃণমূলের অভিযোগ, লক্ষ লক্ষ ভোটাধিকার বাতিল করে এবং শাসকদলের ভোট মেশিনারিকে পঙ্গু করে দিয়ে কমিশন আসলে বিজেপিকেই সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, পরিবর্তনের এক তীব্র চোরাস্রোত রাজ্যজুড়ে বইছিল, যেখানে তথাকথিত ‘ফ্লোটিং ভোটার’রা সরাসরি তৃণমূলের দাপট আর সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। এমনকি তৃণমূলের তুরুপের তাস ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা হিসেবে বিজেপির আরও বড় ভাতার প্রতিশ্রুতিও গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে সফল হয়েছে। সব মিলিয়ে, বাংলার চিরাচরিত ‘অস্মিতা’র রাজনীতির ওপর এবার ধর্মীয় মেরুকরণ আর পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা জয়ী হলো, যার হাত ধরে নবান্নে শুরু হতে চলেছে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার