Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ঘরের মাঠেও ব্রাত্য ‘দিদি’, ছাব্বিশের রাঙা রাতে কি এক ট্র্যাজিক মহাকাব্যের শেষ দেখল বাংলা?

ঘরের মাঠেও ব্রাত্য ‘দিদি’, ছাব্বিশের রাঙা রাতে কি এক ট্র্যাজিক মহাকাব্যের শেষ দেখল বাংলা?
গণনার আগেরদিন কর্মীদের ভোকাল টনিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: “এ লড়াই আমি একা লড়ে নেব”—নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে এই হুঙ্কার যখন দিয়েছিলেন, তখন বাংলার মানুষ আরও একবার চিনেছিল তাঁদের প্রিয় ‘বাঘিনী’কে। কিন্তু ২০২৬-এর ৪ মে-র অভিশপ্ত রাত এক বিষণ্ণ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রইল। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম যাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের পড়ন্ত বেলায় আজ যেন এক ‘ট্র্যাজিক’ পরিণতির সুর।


 নিজের খাস তালুক, নিজের পাড়া ভবানীপুরেই আজ মুখ ফেরালেন ভোটাররা। ১৫ হাজার ১০৫ ভোটের ব্যবধানে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হলেন ‘বাংলার নিজের মেয়ে’। ১৯৮৪ সালের পর এই প্রথম কোনো সাংবিধানিক পদ ছাড়াই থাকতে হচ্ছে তাঁকে। বাংলার রাজনৈতিক আকাশ থেকে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের এই পতন সত্যিই এক ইন্দ্রপতনের সমান।


ভবানীপুর মানেই ছিল তৃণমূলের অভেদ্য দুর্গ। ২০১১ সাল থেকে সুব্রত বক্সি কিংবা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রার্থীরা এখান থেকে লক্ষাধিক ভোটে জয়ী হয়ে এসেছেন। একুশের উপনির্বাচনে এই কেন্দ্রই মমতাকে রক্ষা করেছিল। ছাব্বিশের মহারণেও তিনি সেই চেনা মেজাজেই ঘরের মেয়ে হিসেবে প্রচার চালিয়েছিলেন। বস্তি থেকে অভিজাত আবাসন, ফুটপাতে চা খাওয়া থেকে ঘরোয়া আড্ডা—মানুষের কাছে পৌঁছতে কোনো কসুর করেননি তিনি।


 কিন্তু গণনার শেষে দেখা গেল, শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের ২০ রাউন্ড শেষে তাঁর ঝুলিতে মাত্র ৫৮ হাজার ৩৪৯ ভোট, যেখানে জয়ী প্রার্থীর ঝুলিতে ৭৩ হাজার ৪৬৩। বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত তিনটি কারণে ধসে পড়েছে এই দুর্গ। ভবানীপুরের বড় অংশের অবাঙালি ভোটারদের বিজেপির প্রতি ঝোঁক, অভিজাত আবাসনগুলোর নিভৃত জনমত এবং পর্দার আড়ালে অমিত শাহের নিপুণ জনসংযোগ কৌশল—এই তিনে মিলেই ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে ঘাসফুলের শেষ ভরসা।

যে লড়াই শুরু হয়েছিল আজ থেকে কয়েক দশক আগে, ২০২৬-এ এসে সেই জয়রথ থমকে গেল। যে মানুষটি চিরকাল মানুষের ভিড়ে থাকতে ভালোবাসতেন, আজ যেন তিনি বড় বেশি একা। রাজনীতি বড় নিষ্ঠুর, আর ভবানীপুরের এই রায় যেন সেই নিষ্ঠুরতাকেই আরও একবার প্রমাণ করল। যে মানুষটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই চালিয়েছিলেন আমজনতার নাম ভোটার তালিকায় ফেরাতে, আজ সেই আমজনতারই একটা বড় অংশ তাঁকে ফিরিয়ে দিল। ৪ মে-র অন্ধকার রাত কি তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ও বর্ণময় রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়? নাকি এক নতুন সংগ্রামের শুরু? উত্তর দেবে সময়, তবে আপাতত বাংলা দেখল এক অজেয় নেত্রীর নিঃশব্দ প্রস্থান।



হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : WestBengalElection MamataBanerjee BhawanipurResult2026 PoliticalTragedy

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


ঘরের মাঠেও ব্রাত্য ‘দিদি’, ছাব্বিশের রাঙা রাতে কি এক ট্র্যাজিক মহাকাব্যের শেষ দেখল বাংলা?

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: “এ লড়াই আমি একা লড়ে নেব”—নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে এই হুঙ্কার যখন দিয়েছিলেন, তখন বাংলার মানুষ আরও একবার চিনেছিল তাঁদের প্রিয় ‘বাঘিনী’কে। কিন্তু ২০২৬-এর ৪ মে-র অভিশপ্ত রাত এক বিষণ্ণ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রইল। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম যাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের পড়ন্ত বেলায় আজ যেন এক ‘ট্র্যাজিক’ পরিণতির সুর। নিজের খাস তালুক, নিজের পাড়া ভবানীপুরেই আজ মুখ ফেরালেন ভোটাররা। ১৫ হাজার ১০৫ ভোটের ব্যবধানে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হলেন ‘বাংলার নিজের মেয়ে’। ১৯৮৪ সালের পর এই প্রথম কোনো সাংবিধানিক পদ ছাড়াই থাকতে হচ্ছে তাঁকে। বাংলার রাজনৈতিক আকাশ থেকে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের এই পতন সত্যিই এক ইন্দ্রপতনের সমান।ভবানীপুর মানেই ছিল তৃণমূলের অভেদ্য দুর্গ। ২০১১ সাল থেকে সুব্রত বক্সি কিংবা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রার্থীরা এখান থেকে লক্ষাধিক ভোটে জয়ী হয়ে এসেছেন। একুশের উপনির্বাচনে এই কেন্দ্রই মমতাকে রক্ষা করেছিল। ছাব্বিশের মহারণেও তিনি সেই চেনা মেজাজেই ঘরের মেয়ে হিসেবে প্রচার চালিয়েছিলেন। বস্তি থেকে অভিজাত আবাসন, ফুটপাতে চা খাওয়া থেকে ঘরোয়া আড্ডা—মানুষের কাছে পৌঁছতে কোনো কসুর করেননি তিনি। কিন্তু গণনার শেষে দেখা গেল, শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের ২০ রাউন্ড শেষে তাঁর ঝুলিতে মাত্র ৫৮ হাজার ৩৪৯ ভোট, যেখানে জয়ী প্রার্থীর ঝুলিতে ৭৩ হাজার ৪৬৩। বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত তিনটি কারণে ধসে পড়েছে এই দুর্গ। ভবানীপুরের বড় অংশের অবাঙালি ভোটারদের বিজেপির প্রতি ঝোঁক, অভিজাত আবাসনগুলোর নিভৃত জনমত এবং পর্দার আড়ালে অমিত শাহের নিপুণ জনসংযোগ কৌশল—এই তিনে মিলেই ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে ঘাসফুলের শেষ ভরসা।যে লড়াই শুরু হয়েছিল আজ থেকে কয়েক দশক আগে, ২০২৬-এ এসে সেই জয়রথ থমকে গেল। যে মানুষটি চিরকাল মানুষের ভিড়ে থাকতে ভালোবাসতেন, আজ যেন তিনি বড় বেশি একা। রাজনীতি বড় নিষ্ঠুর, আর ভবানীপুরের এই রায় যেন সেই নিষ্ঠুরতাকেই আরও একবার প্রমাণ করল। যে মানুষটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই চালিয়েছিলেন আমজনতার নাম ভোটার তালিকায় ফেরাতে, আজ সেই আমজনতারই একটা বড় অংশ তাঁকে ফিরিয়ে দিল। ৪ মে-র অন্ধকার রাত কি তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ও বর্ণময় রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়? নাকি এক নতুন সংগ্রামের শুরু? উত্তর দেবে সময়, তবে আপাতত বাংলা দেখল এক অজেয় নেত্রীর নিঃশব্দ প্রস্থান।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার