কলকাতা: বাংলায় দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর, এই ঐতিহাসিক পালাবদলের আবহে সবথেকে বেশি আশার আলো দেখছেন রাজ্যের সেই হাজার-হাজার ‘যোগ্য’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, যাঁরা গত কয়েক বছর ধরে নিয়োগ দুর্নীতির জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিলেন। নিয়োগ কেলেঙ্কারিও যে এবারের নির্বাচনে শাসকদলের ভরাডুবির অন্যতম বড় কারণ, তা মেনে নিচ্ছেন খোদ চাকরিপ্রার্থীরাই।
১৯ হাজার চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর ভবিষ্যৎ এখন ঝুলে রয়েছে খাদের কিনারায়। আদালতের লড়াই আর রাজপথের আন্দোলন - সব মিলিয়ে জীবন জেরবার হয়ে গিয়েছিল তাঁদের। ক্ষমতা বদলের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, বিদায়ী সরকারের দুর্নীতির কারণেই যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা আজ কর্মহীন।
২০১৮-র প্রাথমিক টেট উত্তীর্ণ এক চাকরিপ্রার্থী সেই ভয়াবহ দিনগুলির স্মৃতি উস্কে দিয়ে বলছেন, “মাতঙ্গিনী মূর্তির পাদদেশে হাজার দিনেরও বেশি আন্দোলন করেছি। পুলিশের মার খেয়েছি। আমাদের সহযোদ্ধারা পুলিশের কামড় পর্যন্ত খেয়েছেন! আমরা ন্যায়ের জন্য পথে নেমেছিলাম। উল্টে আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছিল।”
উচ্চ প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ আরও মারাত্মক। তাঁদের মতে, গোটা সিস্টেমটাই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। ২০১৬ সালে বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও গত ১৫ বছরে মাত্র দু’বার এসএসসি পরীক্ষা হয়েছে। গত একবছর ধরে বেতন আটকে রয়েছে বহু শিক্ষাকর্মীর।
এখন প্রশ্ন হল, নতুন সরকার কি পারবে এই মৃতপ্রায় শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাণ ফেরাতে? নিয়োগের জট কি খুলবে? স্বচ্ছ পদ্ধতিতে কি নিয়োগের পরীক্ষা শুরু হবে? যোগ্যরা কি তাঁদের হারিয়ে যাওয়া সম্মান ও চাকরি ফিরে পাবেন? বিজেপি সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু করতেই এখন নতুন আশায় বুক বাঁধছে বাংলার শিক্ষিত সমাজের একাংশ।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন