কলকাতা: বাংলায় রাজনৈতিক মহাপ্রলয় ঘটে গেলেও থামছে না নাটক! নির্বাচন কমিশনের ফলাফল অনুযায়ী তৃণমূল কংগ্রেস পর্যুদস্ত, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত। তবুও ,মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে নারাজ তৃণমূল সুপ্রিমো! তাঁর সাফ কথা, “আমরা তো হারিনি, তাহলে কেন ইস্তফা দেব?” এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে রাজ্যে এক চরম সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, মমতা অনড় থাকলে ঠিক কী করতে পারেন রাজ্যপাল আর এন রবি? আইন ঠিক কী বলছে?
সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যে বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৭ মে পর্যন্ত। নিয়মানুযায়ী এই সময়ের পর মমতার আর ওই পদে থাকার কথা নয়। তিনি স্বেচ্ছায় সরে না দাঁড়ালে রাজ্যপাল নীচের পদক্ষেপগুলি করতে পারেন। যেমন -
সরাসরি বরখাস্ত: মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ বা অপসারণের চূড়ান্ত ক্ষমতা রাজ্যপালের হাতে। তিনি রাজভবন থেকে একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে বর্তমান সরকারকে সরাসরি বরখাস্ত করতে পারেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ: রাজ্যপাল বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারেন। বর্তমান আসন সংখ্যার নিরিখে যা অসম্ভব। আর, তা প্রমাণে ব্যর্থ হলে তাঁকে পদ ছাড়তেই হবে।
৩৫৬ ধারা বা রাষ্ট্রপতি শাসন: মুখ্যমন্ত্রী যদি হারের পরও পদ আঁকড়ে থাকেন, তাহলে রাজ্যপাল একে ‘সাংবিধানিক অচলাবস্থা’ হিসাবে গণ্য করে ৩৫৬ ধারা জারির সুপারিশ করতে পারেন। এর ফলে রাজ্যের ক্ষমতা সরাসরি কেন্দ্রের হাতে চলে যাবে এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত হবেন।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়া স্রেফ কোনও সৌজন্য নয়। এটি একটি বাধ্যতামূলক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করতে এই পদত্যাগ অপরিহার্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তাঁর জেদে অনড় থাকেন, তবে রাজ্যপাল আইনি পথেই তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার দিকে হাঁটবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলার ইতিহাসে এমন জটিল পরিস্থিতি আগে কখনও তৈরি হয়নি। এখন দেখার, রাজভবন বনাম নবান্নের এই স্নায়ুযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত সংবিধানের জয় হয় নাকি পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন