কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই কি ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল ‘স্বাস্থ্যসাথী’র? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে বিজেপি সরকারের প্রথম বৈঠকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হবে। আর এই ডামাডোলের মাঝেই বড়সড় সমস্যার মুখে পড়ছেন সাধারণ রোগীরা। অভিযোগ উঠছে, রাজ্যের একাধিক জেলায় বেসরকারি নার্সিংহোমগুলি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিতে অস্বীকার করছে অথবা পুরো টাকা দাবি করছে।
হাওড়ার উলুবেড়িয়া থেকে মেদিনীপুর— সর্বত্র একই চিত্র। ৫ মে সার্জারির দিন ধার্য থাকলেও অনেক রোগীকে পুরো টাকা জমা দিতে বলছে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। তাঁদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিতে বকেয়া টাকা কোন সরকারের থেকে পাওয়া যাবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যসাথী পোর্টাল দীর্ঘক্ষণ বিকল থাকায় সমস্যা আরও কয়েক গুণ বেড়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের এক নার্সিংহোম মালিক কল্লোল কুইলা জানিয়েছেন, পোর্টাল বন্ধ থাকায় তাঁরা কোনও আপডেট করতে পারছেন না।
সাধারণ মানুষের এই হয়রানি নিয়ে সরব হয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকরা (CMOH)। হাওড়া ও হুগলির স্বাস্থ্য কর্তারা জানিয়েছেন, “স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেওয়া হচ্ছে না এমন অভিযোগ এলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে, নতুন সরকারের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে যাঁর নাম চর্চায় রয়েছে, সেই চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁ আশ্বস্ত করেছেন, কার্ডহোল্ডাররা যেন কোনওভাবেই পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
২০১৭ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে চালু হওয়া ৫ লক্ষ টাকার বিমা প্রকল্প ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কি তবে বন্ধ হতে চলেছে? কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প রাজ্যে দ্রুত কার্যকর হতে চলায় এই জল্পনা এখন তুঙ্গে। তবে যতক্ষণ না নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে, ততক্ষণ পুরনো পরিষেবা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক বলেই জানাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল।
যদি কোনও হাসপাতাল বা নার্সিংহোম স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিতে অস্বীকার করে বা টালবাহানা করে, তবে ভুক্তভোগীরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH)-এর দফতরে লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন