কলকাতা: বিগত কয়েক বছরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পাশে যাঁকে ছায়ার মতো ঘুরতে দেখা যেত, তাঁর নাম চন্দ্রনাথ রথ। মিটিং-মিছিলের নিখুঁত প্ল্যানিং থেকে শুরু করে শুভেন্দুর জরুরি ফাইল গুছিয়ে রাখা— সব দায়িত্বই ছিল তাঁর কাঁধে। কিন্তু বাংলার নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগেই ঘটে গেল চরম অঘটন।
বুধবার রাতে বাইকে চড়ে এসে দুষ্কৃতীরা চলন্ত গাড়ি থামিয়ে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দিল চন্দ্রনাথের দেহ। অর্জুন সিং বা শঙ্কুদেব পণ্ডার মতো বিজেপি নেতাদের দাবি, খুনিরা মৃত্যু নিশ্চিত করেই তবেই ঘটনাস্থল ছেড়েছে, যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে এটি কোনও সাধারণ অপরাধ নয়, বরং দীর্ঘদিনের ‘রেইকি’র ফসল।
চণ্ডীপুরের ঈশ্বরপুর ৫ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা এই চন্দ্রনাথের পরিচয় কেবলই এক রাজনৈতিক কর্মীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ছিলেন একজন প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী। দেশসেবা থেকে ফিরে গত ৮ বছর ধরে তিনি হয়ে উঠেছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর সবথেকে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। শুভেন্দু যখন তৃণমূলে ছিলেন, তখন থেকেই তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের রসায়ন ছিল অটুট।
পরবর্তীতে শুভেন্দু যখন গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়ে বিরোধী দলনেতা হলেন, তখন থেকে কলকাতার দায়িত্ব সামলানো কিংবা ২৬-এর নির্বাচনে নন্দীগ্রামের রণকৌশল তৈরি— সব ক্ষেত্রেই চন্দ্রনাথ ছিলেন অপরিহার্য। নিজের বাড়িতে বৃদ্ধা মাকে রেখে আসা এই তেজস্বী মানুষটির এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে এখন শোকস্তব্ধ চণ্ডীপুর থেকে কলকাতা। নেতার পরম আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত এই ‘প্রাক্তন সেনাকর্মী’র প্রয়াণ রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় শূন্যতা তৈরি করে দিল।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন