একদিকে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্বের আঁতুড়ঘর নন্দীগ্রাম, অন্যদিকে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গড় ভবানীপুর— জোড়া জয়ে এখন উল্লাসের পাশাপাশি চরম দোটানায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনে দুই কেন্দ্রেই বাজিমাত করার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, শুভেন্দু আসলে কোন আসনটি নিজের কাছে রাখবেন?
বুধবার নিজের রাজনৈতিক ‘ভদ্রাসন’ নন্দীগ্রামে পা রেখেই সেই বহু প্রতীক্ষিত জল্পনার অবসান ঘটালেন তিনি। রেয়াপাড়া ও হরিপুরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট করলেন তাঁর আগামীর রণকৌশল। নন্দীগ্রামের মানুষ যখন ‘আমাদের ছেড়ে যাবেন না’ বলে আবেগী স্লোগান তুলছেন, তখন অত্যন্ত কৌশলী ভঙ্গিতে দলের শৃঙ্খলার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।
শুভেন্দু সাফ জানান, কোন আসনটি তিনি রাখবেন আর কোনটি ছেড়ে দেবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ব্যক্তিগত মতামতের ঊর্ধ্বে উঠে দলের নির্দেশ পালন করাই যে তাঁর প্রধান লক্ষ্য, তা এদিন বুক ঠুকে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে ভবানীপুরের মানুষকেও নিরাশ করেননি শুভেন্দু।
‘পাড়ার মেয়ে’কে প্রত্যাখ্যান করে ভবানীপুরবাসী যেভাবে তাঁকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী করেছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন— বিধায়ক যে কেন্দ্রেরই থাকুন না কেন, দুই আসনের মানুষের প্রতিই তিনি সমানভাবে কর্তব্য পালন করবেন। ১০ দিনের মধ্যে পদত্যাগের সময়সীমা থাকলেও শুভেন্দুর এই ‘কর্তব্য’ পালনের বার্তা বুঝিয়ে দিচ্ছে, আনুষ্ঠানিক বিধায়ক পদ যেটাই হোক, কাজের ক্ষেত্রে তিনি দুই কেন্দ্রেই নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়া।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন