কলকাতা: বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বিধানসভা চত্বরে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। নতুন সরকারের শপথগ্রহণের কাউন্টডাউন শুরু হতেই বিধানসভার অন্দরে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন প্রশাসনিক তৎপরতা। প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের নির্দেশে আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিধানসভার স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ এবং ডেপুটি চিফ হুইপের ঘর। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এই ঘরগুলোতে বাইরের কারও প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সবথেকে বড় রদবদল চোখে পড়ছে মন্ত্রীদের ঘরে; সেখানে থাকা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত ছবি ইতিপূর্বেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
বিধানসভা চত্বর জুড়ে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। প্রতিটি কোণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি চলছে প্রয়োজনীয় মেরামতির কাজ। কোথাও কোনো বৈদ্যুতিক সমস্যা বা শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত ঠিক করে ফেলা হচ্ছে। বিশেষত বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা দফায় দফায় পরিদর্শন করছেন। সূত্রের খবর, এখানেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় তৈরি হচ্ছে। নিরাপত্তার খাতিরে গোটা বিধানসভায় পুলিশি বন্দোবস্ত বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে, এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের করিডরের সামনেও বসানো হয়েছে কড়া পুলিশ প্রহরা।
উল্লেখ্য, আগামী দু’দিনের মধ্যেই নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার কথা। তার আগেই সাংবিধানিক প্রথা মেনে পুরনো বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালও এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেছেন। সব মিলিয়ে, দেওয়াল থেকে ছবি সরিয়ে ফেলা এবং প্রশাসনিক ঘরগুলো বন্ধ রাখা— এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনার প্রস্তুতিই স্পষ্ট হচ্ছে বিধানসভার অন্দরে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন