কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার ঘরে-বাইরে প্রবল চাপে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনী বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই দলের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র বিদ্রোহ! সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলায় পাঁচ হেভিওয়েট মুখপাত্রকে এবার কড়া ভাষায় ‘শো-কজ’ নোটিস পাঠাল দল। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের অন্দরে শোরগোল ফেলে দেওয়া এই পাঁচ মুখপাত্র হলেন - ঋজু দত্ত, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, কোহিনুর মজুমদার, পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষ।
এবারের নির্বাচনে মাত্র ৮০টি আসনেই থমকে গিয়েছে তৃণমূলের জয়রথ। অন্যদিকে, ২০৭টি আসন নিয়ে রাজ্যের মসনদে বসতে চলেছে বিজেপি। এই অভাবনীয় বিপর্যয়ের পর থেকেই দলের একাংশ নেতা ও মুখপাত্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। প্রকাশ্যেই তাঁরা দলের রণকৌশল এবং নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু করেন। দলের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটির তরফে ডেরেক ও’ব্রায়েন এই পাঁচ নেতাকে নোটিস পাঠিয়ে জানতে চেয়েছেন, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
শো-কজ নোটিস পেয়েও দমে যাওয়ার পাত্র নন অভিযুক্তরা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই তাঁরা দীর্ঘ জবাবি চিঠি তৈরি করে ফেলেছেন। চিঠির দৈর্ঘ্য ২ থেকে ৪ পৃষ্ঠাও ছাড়িয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এমনই এক এক বিদ্রোহী মুখপাত্রের কথায়, “আমি যা বলার দলেই বলব। তবে এটা বলতে পারি, আমি যা বলেছি সেটা দলের নিচুতলার মনের কথা। বিদায়ী মন্ত্রিসভার তিন সদস্যও ফোন করে আমাকে সমর্থন জানিয়েছেন।”
এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, শোকজ করা হলেও দলের অন্দরে বড়সড় ফাটল ধরার সম্ভাবনা প্রবল। রাজনৈতিক মহলের মতে, পরাজয়ের ক্ষত সামলানোর বদলে এখন অন্তর্দ্বন্দ্ব সামাল দিতেই বেশি হিমশিম খাচ্ছে ঘাসফুল শিবির।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন