বহরমপুর: রাজ্যে পালাবদলের আবহে যখন ব্রিগেডের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শপথ নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, ঠিক তখনই বাংলার রাজনীতির সমীকরণ আমূল বদলে দেওয়ার বার্তা দিলেন ‘জায়ান্ট কিলার’ হুমায়ুন কবীর। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে জোড়া জয় হাসিল করার পর এবার ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন নিয়ে বোমা ফাটালেন তিনি। জানিয়ে দিলেন, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে অঘোষিত সমর্থন দেবেন তিনি এবং তাঁর দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’।
তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে নিজের দল গড়া হুমায়ুন কবীর এবার মুর্শিদাবাদ ও মালদহ বলয়ে তৃণমূলকে পুরোপুরি সাফ করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ঘোষণা করেন, “আগামী লোকসভা নির্বাচনে মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও রায়গঞ্জের মোট ৬টি আসনে আমরা প্রার্থী দেব। কিন্তু, রাজ্যের বাকি আসনগুলি আমরা বিজেপিকে ছেড়ে দেব। একপ্রকার অঘোষিত সমর্থন থাকবে আমাদের।” তাঁর এই ঘোষণায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিধানসভায় হারের পর লোকসভাতেও তৃণমূলকে কোণঠাসা করতেই এই চাল চেলেছেন তিনি।
মুর্শিদাবাদ নিয়ে তাঁর চ্যালেঞ্জ আরও তীব্র। তিনি সরাসরি তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মুর্শিদাবাদের তিনটি আসনেই তৃণমূলকে হারাব। আমি নিজে বহরমপুর থেকে লড়ব এবং জিতব। পাশাপাশি, জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদ আসন থেকেও আমার প্রার্থীদের জয়ী করে আনব।” উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর একই সঙ্গে নওদা ও রেজিনগর আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন তাঁকে ছাড়তে হবে। সেই বিষয়েও এদিন মুখ খুলেছেন তিনি। জানিয়েছেন, রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনে নিজের ছেলে গোলাম নবী আজাদকে প্রার্থী করবেন তিনি।
তৃণমূলের দাপুটে নেতা হিসাবে একসময় পরিচিত হুমায়ুন আজ সেই তৃণমূলেরই বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। একদিকে যখন শুভেন্দু অধিকারী বাংলার কুর্সিতে বসলেন, অন্যদিকে ঠিক সেই সময়েই হুমায়ুনের এই ‘বিজেপি-প্রীতি’র ঘোষণা কি তবে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক হতে চলেছে? প্রশ্নটা এখন মুর্শিদাবাদের অলিতে-গলিতে ঘুরপাক খাচ্ছে।
বিষয় : BengalPolitics TMCVSBJP #humayunkabir

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন