বেইরুট: শান্তির আশা কি তবে বিশ বাঁও জলে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া সংঘর্ষবিরতির চুক্তিকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লেবাননে ফের ভয়াবহ হামলা শুরু করল ইজরায়েল। বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন জনপদে চলা এই লাগাতার হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২০ জন। ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ছারখার হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, আর সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হচ্ছে মহিলা ও শিশুদের নিথর দেহ।
লেবাননের স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দুজন মহিলা। অন্য একটি পৈশাচিক হামলায় দুই শিশু, এক চিকিৎসাকর্মী এবং একজন উদ্ধারকারীর মৃত্যু হয়েছে। নাবাতিয়েহ জেলার তিনটি গ্রামে ইজরায়েলি বিমান হামলায় এক লপ্তে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন। সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দাবানল নেভার বদলে আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তেহরান মদতপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লা বদলা নিতে ইজরায়েলে গোলাবর্ষণ শুরু করলে পালটা বেইরুটসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বিমান হামলা শুরু করে তেল আভিভ। ভারত-সহ বিশ্বের ৩০টি দেশ এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ইজরায়েলি অভিযানে লেবাননে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্য়েই ২ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে!
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে শান্তি ফেরার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান-আমেরিকা সংঘাত। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরমাণু আলোচনায় ফিরতে হলে ইরান ও লেবাননে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু, আমেরিকা বা ইজরায়েল — কেউই আপাতত সুর নরম করার পথে হাঁটছে না। ফলে সংঘর্ষবিরতির চুক্তি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। আর, লেবাননের আকাশজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান!

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন