নয়াদিল্লি: চব্বিশের লড়াইয়ে মোদিবিরোধী যে ‘ইন্ডিয়া’ (I.N.D.I.A.) জোট বহুলাংশেই সফল হয়েছিল, তার স্থায়িত্ব কি এবার শেষের পথে? সদ্য সমাপ্ত চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল এবং বিশেষ করে বাংলায় তৃণমূলের ভরাডুবির পর রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক মন্তব্য সেই জল্পনাকেই উস্কে দিল। শরিক দলগুলিকে কার্যত গুরুত্বহীন করে দিয়ে রাহুল দাবি করলেন — বিজেপিকে হারানোর ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসেরই আছে।
শুক্রবার হরিয়ানার এক জনসভায় রাহুল গান্ধী নাম না করে জোটসঙ্গীদেরই নিশানা করেন। তিনি বলেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইটা আদর্শের। ভারতে এই মুহূর্তে দুটি রাজনৈতিক আদর্শ কাজ করছে — একদিকে বিজেপি ও আরএসএসের ঘৃণা, অন্যদিকে কংগ্রেসের ভালোবাসা।” কিন্তু, বিতর্কের সূত্রপাত হয় তাঁর পরের বক্তব্যে। রাহুল সাফ জানান, “নির্বাচন কমিশন থেকে কেন্দ্রীয় এজেন্সি — সবই এখন বিজেপির দখলে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সিংহসুলভ কর্মীরা ছাড়া আর কেউ বিজেপির সামনে দাঁড়াতে পারবে না। লিখে রাখুন, অন্য কোনও দল নয়, একমাত্র কংগ্রেসই পারবে বিজেপিকে হারাতে।”
রাহুলের এই ‘একলা চলো’ মেজাজ এবং জোটের অন্য আঞ্চলিক দলগুলিকে খাটো করে দেখার প্রবণতায় ক্ষুব্ধ শরিকরা। প্রশ্ন উঠছে, বাংলা বা মহারাষ্ট্রে জোটসঙ্গীদের হারে কি তবে মনে মনে খুশি কংগ্রেস হাইকম্যান্ড? ডিএমকে ইতিমধ্যেই কংগ্রেসকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে দাগিয়ে দিয়েছে। বাংলায় বিজেপির জয়ের পর প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের উল্লাস এবং তার বিরুদ্ধে হাইকম্যান্ডের উল্লেখযোগ্য সক্রিয়তা না দেখে তৃণমূলের অন্দরেও তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাহুল গান্ধীর এই দাবি আদতে জোটের অন্দরে ভাঙনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিল। যেখানে জোটবদ্ধ হয়ে লড়ার কথা, সেখানে রাহুলের এই ‘অহং’ শরিক দলগুলিকে কংগ্রেসের থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতার এই অতি-আত্মবিশ্বাস কি আগামী দিনে ইন্ডিয়া জোটের কফিনে শেষ পেরেক হতে চলেছে? সেই আশঙ্কাই এখন প্রবল হচ্ছে জাতীয় রাজনীতিতে।
বিষয় : congress rahulgandhi nationalpolitics

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন