বহরমপুর: রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর বিরোধী শিবিরের সমীকরণ নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপিবিরোধী জোটের ডাককে তীব্র কটাক্ষ করে অধীরের ভবিষ্যদ্বাণী — "আগামীদিনে মমতাকে রাহুল গান্ধীর কাছে হাতজোড় করেই দাঁড়াতে হবে।" রাজ্যে বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলনেত্রী যখন বাম ও অতিবামদের কাছে সাহায্যের আর্জি জানাচ্ছেন, ঠিক তখনই অধীরের এই আক্রমণ রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।
শনিবার ব্রিগেডে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিনই কালীঘাটে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি ঘোষণা করেন, বাংলায় ও দিল্লিতে বিজেপিকে রুখতে ছাত্র, যুব এবং সব রাজনৈতিক দলকে একজোট হতে হবে। এমনকী, প্রয়োজনে আলোচনার জন্য বিকেল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত নিজের অফিসে সময় দেওয়ার কথাও জানান তিনি। মমতার এই আর্জিকেই বিঁধেছেন অধীর। তাঁর কথায়, "বিপদে পড়লে বিড়াল যেমন গাছে ওঠে, মমতার অবস্থাও এখন তেমন। বামেদের তাড়াতে একসময় নকশালদের বন্ধু করেছিলেন, পরে কিষাণজিকে হত্যা করালেন। এখন আবার সবাইকেই ডাকছেন।"
অধীর এদিন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও রেয়াত করেননি। তাঁর দাবি, "অভিষেকের বাড়ি এখন মিউজিয়ামে পরিণত হয়েছে, মানুষ তা দেখতে যাচ্ছেন। এরপর মমতার বাড়িটাও মিউজিয়াম হবে।" একইসঙ্গে নতুন বিজেপি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে অধীর জানান, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন না করলে তৃণমূলের মতো এই সরকারকেও মানুষ ছুড়ে ফেলে দেবে।
রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যখন তৃণমূল অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে জোটের পথ খুঁজছে, তখন কংগ্রেস নেতার এমন কড়া অবস্থান ভবিষ্যতে রাজ্যে বিরোধী জোটের পথকে আরও কঠিন করে তুলল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন