বামাকো: ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আল-কায়দার শাখা সংগঠন ‘জামাত নুসরত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন’ (জেএনআইএম)-এর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭০ জন নিরীহ মানুষ। স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, নিহতের সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই ঘটনার পর থেকেই মালির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, গত এপ্রিল মাস থেকেই উত্তপ্ত মালি। গত বুধবার এবং শুক্রবার দফায় দফায় একাধিক গ্রামে হামলা চালায় সশস্ত্র জঙ্গিরা। অভিযোগ, যে সমস্ত গ্রাম জেএনআইএম-এর সঙ্গে সমঝোতা বা চুক্তিতে সই করতে অস্বীকার করছে, তাঁদের উপরই বেছে বেছে এই বর্বর আক্রমণ চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, খোদ রাজধানী বামাকো থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে একটি কারাগারেও হানা দিয়েছে সশস্ত্রবাহিনী। ওই কারাগারে প্রায় ২,৫০০ কয়েদি রয়েছে, যাদের মধ্যে ৭২ জন অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সেদেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আক্রান্ত গ্রামবাসীর অভিযোগ, চোখের সামনে জঙ্গিরা নির্বিচারে মানুষ মারলেও পার্শ্ববর্তী সেনা ক্যাম্প থেকে কোনও সাহায্য মেলেনি। বারবার আরজি জানানো সত্ত্বেও সেনার কোনও হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি।
মালি সরকারের উপর চাপ বাড়িয়ে জঙ্গিরা এবার রাজধানী বামাকোকে অবরুদ্ধ করার হুমকি দিয়েছে। শহরের ঢোকার সমস্ত রাস্তায় চেকপয়েন্ট বসানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেএনআইএম। অন্যদিকে, গত এপ্রিল মাসে এক হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারার মৃত্যু এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কিদাল থেকে রুশ বাহিনীর সরে যাওয়া — সব মিলিয়ে মালির বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন