দুর্গাপুর: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার কি তবে পুরনো এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার হতে চলেছে? ২০১৮ সালে কাঁকসায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ হারানো বিজেপির বুথ সভাপতি সন্দীপ ঘোষের পরিবার এবার সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরব। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পর নতুন করে বুক বাঁধছেন নিহত নেতার বৃদ্ধ বাবা-মা।
২০১৮ সালের ৯ ডিসেম্বর। পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার জঙ্গলমহল এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। অভিযোগ, দলের বৈঠক সেরে ফেরার পথে জনা চল্লিশেক দুষ্কৃতী লাঠি, রড ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় সন্দীপ ও তাঁর সঙ্গীদের উপর। পালানোর চেষ্টা করলে সন্দীপকে লক্ষ করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া সন্দীপকে দুর্গাপুরের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। সেদিন তাঁর সঙ্গে থাকা তন্ময় কর বা জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কর্মীরা আজও সেই হাড়হিম করা স্মৃতি মনে করে শিউরে ওঠেন।
পরিবারের অভিযোগ, তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে পুলিশি তদন্ত ছিল নামমাত্র। কয়েকজন গ্রেফতার হলেও তারা বর্তমানে জামিনে মুক্ত। বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় বা দিলীপ ঘোষেরা সেই সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাংলায় বিজেপি সরকার এলে নতুন করে ফাইল খোলা হবে। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হবে এবং দোষীরা শাস্তি পাবে।
ছেলের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ বাবা বিজয় ঘোষের দাবি, "চাপা কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি। সিবিআই তদন্ত হোক, তবেই দোষীদের আসল শাস্তি হবে।" মা প্রতিমা ঘোষের গলাতেও ঝরে পড়ল অভিমান, "বিজেপি করাই অপরাধ ছিল আমার ছেলের। আট বছর হতে চলল, খুনিরা আজও ঘুরে বেড়াচ্ছে।"
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এই ধরনের পুরনো মামলার পুনর্তদন্ত রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কাঁকসার এই হত্যাকাণ্ডের সিবিআই তদন্ত শুরু হলে অনেক রাঘববোয়ালদের নাম জড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, তেমনটা আদৌ হয় কিনা।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন