কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার দুর্নীতি দমনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও চার্জশিট পেশের জন্য এখন থেকে আর রাজ্য সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় বসে থাকতে হবে না সিবিআইকে। বুধবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর সরকার দুর্নীতির প্রশ্নে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অবিচল।
পূর্বতন সরকারের আমলে বেশ কিছু উচ্চপদস্থ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির তদন্তে সিবিআইকে ছাড়পত্র না দেওয়ার অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। শুভেন্দু অধিকারী এদিন জানান, সিবিআইয়ের চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা গত চারবছর ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। আইন অনুযায়ী সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিতে গেলে রাজ্য সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হয়। মুখ্যমন্ত্রী এদিন সেই তিন দফতরের দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মূলত শিক্ষা দফতরের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি এবং সমবায় দফতরের দুর্নীতির মামলার ফাইলগুলি দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে এই মামলাগুলির যে তদন্ত চলছে, তাতে যুক্ত কোনও আধিকারিককেই আর আড়াল করবে না বর্তমান সরকার। ইতিমধ্যে এই ছাড়পত্রের অনুলিপি সিবিআইয়ের কাছে পৌঁছে গিয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই বিজেপি দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলার আশ্বাস দিয়েছিল। এদিন শুভেন্দু অধিকারী সেই প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমাদের এই সরকার মানুষের অনেক প্রত্যাশা নিয়ে এসেছে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা আমাদের দলের ইস্তাহারেও ছিল। দুর্নীতিগ্রস্ত আমলাদের বাঁচানোর যে রাজনীতি আগে চলত, তা আমরা বন্ধ করে দিলাম। আগামী দিনে আরও বড় পদক্ষেপ দেখতে পাবে রাজ্যের মানুষ।”
প্রশাসনিক মহলের ধারণা, মুখ্যমন্ত্রীর এই অভাবনীয় সিদ্ধান্ত রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির হাত আরও শক্ত করবে এবং নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলার তদন্তে দ্রুত গতি আসবে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন