জেনেভা: দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম ‘পিসিওএস’ (PCOS) বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম আর থাকছে না! মঙ্গলবার ইউরোপিয়ান কংগ্রেস অফ এন্ডোক্রিনোলজির পক্ষ থেকে এই রোগের নতুন নামকরণ করা হয়েছে। এখন থেকে এটি পরিচিত হবে ‘পিএমওএস’ (PMOS) বা পলিএন্ডোক্রিন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম নামে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং গবেষকদের মতে, পুরনো নামের কারণে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি দূর করতেই এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
এতদিন ‘পিসিওএস’ নামের মধ্যে ‘সিস্ট’ শব্দটি থাকায় সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল যে, এই রোগে ডিম্বাশয়ে সিস্ট হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই রোগে সিস্ট হতেও পারে আবার না-ও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়ে খুব ছোট ছোট অপরিণত থলি তৈরি হয়, যা আদতে সিস্ট নয়। নামের মধ্যে ‘সিস্ট’ থাকায় অনেক মহিলা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ভুলবশত একে ক্যানসারের আশঙ্কার সঙ্গেও গুলিয়ে ফেলেন। এই ভুল ধারণা ভাঙতেই নতুন নামে ‘সিস্ট’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নাম ‘পলিএন্ডোক্রিন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম’ স্পষ্ট করে দেয় যে, এটি একটি হরমোনঘটিত বা এন্ডোক্রিন সিস্টেমের জটিলতা। এটি কেবল ডিম্বাশয় বা প্রজননতন্ত্রের সমস্যা নয়, বরং শরীরের একাধিক অঙ্গের উপর এর প্রভাব পড়ে। ইনসুলিনের তারতম্যের কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি, হার্টের সমস্যা, ত্বকের রোগ এমনকী মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও এর গভীর প্রভাব থাকতে পারে।
গবেষকদের দাবি, আগে অনেক মহিলাই পরীক্ষায় সিস্ট ধরা না পড়লে ধরে নিতেন যে তাঁদের পিসিওএস নেই। ফলে সঠিক চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হত। আবার অনেকের ধারণা ছিল, এই রোগ মানেই কোনও দিন মা হওয়া সম্ভব নয়! ‘হু’-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। পিসিওএস বা পিএমওএস থাকলেও সঠিক চিকিৎসায় অনেক মহিলাই স্বাভাবিকভাবে অন্তঃসত্ত্বা হন।
নতুন নামকরণের ফলে চিকিৎসাক্ষেত্রে যেমন স্বচ্ছতা আসবে, তেমনই রোগীরাও অহেতুক আতঙ্ক কাটিয়ে সঠিক চিকিৎসার দিকে এগোতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিষয় : pcos pmos womenshealth

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন