নয়াদিল্লি: বিশ্ব বাজারের প্রবল ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়ে ইতিহাসে এই প্রথমবার মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে ৯৬-এর গণ্ডি পার করল ভারতীয় টাকা। শুক্রবার ইন্টারব্যাঙ্ক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে টাকার রেকর্ড পতন ঘটে এবং এক সময়ে ডলার প্রতি ভারতীয় মুদ্রার বিনিময় দর রেকর্ড ৯৬.১৪ টাকায় গিয়ে ঠেকে। দিনের শুরুতে বাজার ৯৫.৮৬ টাকায় খুললেও সময়ের সাথে সাথে তা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। অথচ ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবারও বাজার বন্ধের সময় ডলারের সাপেক্ষে টাকার দর ছিল ৯৫.৬৪ টাকা। ফলে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ভারতীয় মুদ্রা একধাক্কায় ৫০ পয়সা হারিয়েছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে ধরলে চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ডলারের তুলনায় টাকার দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমে গিয়েছে। আর্থিক বিশ্লেষক সংস্থা Investing.com-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে বিশ্বের উদীয়মান বাজারগুলির মুদ্রাগুলির মধ্যে সবচেয়ে হতাশাজনক ও খারাপ পারফরম্যান্স করেছে ভারতীয় টাকা।
কিন্তু কেন হঠাৎ টাকার ওপর এই নজিরবিহীন চাপ? ফরেক্স বাজারের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক কারণ। প্রথমত, পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা যুদ্ধকালীন সংঘাত বিশ্ব বাজারে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এমন টালমাটাল পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে লগ্নিকারীরা সোনা বা ডলারের মতো নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা এবং শক্তি দুই-ই রকেটের গতিতে বাড়ছে। বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার সাপেক্ষে মার্কিন ডলারের শক্তি নির্দেশক ‘ডলার ইনডেক্স’ ০.২৪ শতাংশ বেড়ে ৯৯.০৫-এ পৌঁছে যাওয়াই টাকার কোমর ভেঙে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত এবং সবচেয়ে বড় কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) অগ্নিমূল্য হওয়া। ভারত নিজের প্রয়োজনের ৮৫ শতাংশেরই বেশি ক্রুড অয়েল বিদেশ থেকে আমদানি করে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৭ ডলারের উপরে উঠে যাওয়ায় ভারতের আমদানি খরচ বিপুল পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে, যার সরাসরি ধাক্কা এসে লেগেছে ভারতীয় টাকার মূল্যে।
বিষয় : indianrupee rupeecrash usdollar

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন