Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

"ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গেল নাকি!" নেদারল্যান্ডসে গিয়ে প্রবাসীদের কেন এই প্রশ্ন মোদীর?

"ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গেল নাকি!" নেদারল্যান্ডসে গিয়ে প্রবাসীদের কেন এই প্রশ্ন মোদীর?
ছবি সংগৃহীত

দ্য হেগ: ছাব্বিশের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ জয়ের পর এবার ইউরোপের মাটিতে দাঁড়িয়েও বাংলার সেই বিখ্যাত ‘ঝালমুড়ি’র কথা শোনালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী এখন পৌঁছে গিয়েছেন নেদারল্যান্ডসে। শনিবার সেখানে ‘দ্য হেগ’ শহরে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে এক বিশেষ আলোচনাসভায় মিলিত হন তিনি। সেই মঞ্চেই পাঁচ রাজ্যের ভোট প্রসঙ্গ এবং বিশেষ করে বাংলার পালাবদলের কথা উঠতেই নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতার ভঙ্গিমায় মোদী প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে নাকি!”


নেদারল্যান্ডসের এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী ভারতীয়দের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলির ফলাফল এবং বিপুল ভোটদানের হার নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে এবার গড়ে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোট পড়েছে। যার মধ্যে মহিলাদের রেকর্ড ভোটদানের হার ছিল অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। মোদী বলেন, “যখন সাধারণ মানুষের স্বপ্ন সত্যি হয়, তখন গণতন্ত্রের উপর তাদের ভরসা বৃদ্ধি পায়।” প্রধানমন্ত্রীর মুখে এই কথা শুনেই অডিটোরিয়ামজুড়ে উপস্থিত প্রবাসীদের উল্লাসধ্বনি ও করতালির ঝড় বয়ে যায়। সেই উচ্ছ্বাস দেখেই হাসিমুখে ঝালমুড়ির এই প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি।


উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝাড়গ্রামে গিয়ে এক নজিরবিহীন কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ঝাড়গ্রামের সভা শেষ করে হেলিপ্যাডের দিকে যাওয়ার সময় কলেজ মোড়ের কাছে হঠাৎ দাঁড়িয়ে যায় তাঁর কনভয়। গাড়ি থেকে নেমে সোজা এক ঝালমুড়ি বিক্রেতার দোকানে চলে যান মোদী। সেখানে নিজের পকেট থেকে ১০ টাকা বের করে তা দিয়েই ঝালমুড়ি কিনে খান তিনি। মুড়ি মাখার সময় বিক্রেতা যখন জানতে চান যে তিনি ঝাল-পেঁয়াজ খাবেন কিনা, তখন ঈষৎ হেসে প্রধানমন্ত্রী জবাব দিয়েছিলেন, “আমি ঝালও খাই, পেঁয়াজও খাই। সির্ফ দিমাগ নেহি খাতা হুঁ (শুধু মাথা খাই না)।”


প্রধানমন্ত্রীর এই ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে সেই সময় রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল তরজা শুরু হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে গোটা বিষয়টিকে ‘ভোটের নাটক’ বলে তীব্র কটাক্ষ ও খোঁচা দেওয়া হয়েছিল। তবে, মোদীও পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েননি। এর পরের জনসভায় এসে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “ঝালমুড়ি কিছু লোককে জোরে ধাক্কা দিয়েছে। আমি ঝালমুড়ি খেয়েছি। কিন্তু, ঝাল লেগেছে তৃণমূলের।”


পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক জয়ের পর বিজেপির তরফ থেকে মিষ্টির পাশাপাশি রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে ঝালমুড়ি বিতরণ করা হবে বলেও আগে ঘোষণা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে পালাবদলের পর গত কয়েক দিনে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের সেই ঝালমুড়ি বিলি করার দৃশ্যও ধরা পড়েছে। আর, এবার সেই রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ঝালমুড়িকে খোদ বিদেশের মাটিতেও পৌঁছে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।


ছ’দিনের এই মেগা বিদেশ সফরে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং নেদারল্যান্ডসের সফর চুকিয়ে এর পর পর্যায়ক্রমে নরওয়ে, সুইডেন এবং ইটালিতেও যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। 

বিষয় : WESTBENGALELECTION PMMODI JHALMURIPOLITICS netherlandvisit

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


"ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গেল নাকি!" নেদারল্যান্ডসে গিয়ে প্রবাসীদের কেন এই প্রশ্ন মোদীর?

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image
দ্য হেগ: ছাব্বিশের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ জয়ের পর এবার ইউরোপের মাটিতে দাঁড়িয়েও বাংলার সেই বিখ্যাত ‘ঝালমুড়ি’র কথা শোনালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী এখন পৌঁছে গিয়েছেন নেদারল্যান্ডসে। শনিবার সেখানে ‘দ্য হেগ’ শহরে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে এক বিশেষ আলোচনাসভায় মিলিত হন তিনি। সেই মঞ্চেই পাঁচ রাজ্যের ভোট প্রসঙ্গ এবং বিশেষ করে বাংলার পালাবদলের কথা উঠতেই নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতার ভঙ্গিমায় মোদী প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে নাকি!”নেদারল্যান্ডসের এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী ভারতীয়দের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলির ফলাফল এবং বিপুল ভোটদানের হার নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে এবার গড়ে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোট পড়েছে। যার মধ্যে মহিলাদের রেকর্ড ভোটদানের হার ছিল অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। মোদী বলেন, “যখন সাধারণ মানুষের স্বপ্ন সত্যি হয়, তখন গণতন্ত্রের উপর তাদের ভরসা বৃদ্ধি পায়।” প্রধানমন্ত্রীর মুখে এই কথা শুনেই অডিটোরিয়ামজুড়ে উপস্থিত প্রবাসীদের উল্লাসধ্বনি ও করতালির ঝড় বয়ে যায়। সেই উচ্ছ্বাস দেখেই হাসিমুখে ঝালমুড়ির এই প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি।উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝাড়গ্রামে গিয়ে এক নজিরবিহীন কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ঝাড়গ্রামের সভা শেষ করে হেলিপ্যাডের দিকে যাওয়ার সময় কলেজ মোড়ের কাছে হঠাৎ দাঁড়িয়ে যায় তাঁর কনভয়। গাড়ি থেকে নেমে সোজা এক ঝালমুড়ি বিক্রেতার দোকানে চলে যান মোদী। সেখানে নিজের পকেট থেকে ১০ টাকা বের করে তা দিয়েই ঝালমুড়ি কিনে খান তিনি। মুড়ি মাখার সময় বিক্রেতা যখন জানতে চান যে তিনি ঝাল-পেঁয়াজ খাবেন কিনা, তখন ঈষৎ হেসে প্রধানমন্ত্রী জবাব দিয়েছিলেন, “আমি ঝালও খাই, পেঁয়াজও খাই। সির্ফ দিমাগ নেহি খাতা হুঁ (শুধু মাথা খাই না)।”প্রধানমন্ত্রীর এই ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে সেই সময় রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল তরজা শুরু হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে গোটা বিষয়টিকে ‘ভোটের নাটক’ বলে তীব্র কটাক্ষ ও খোঁচা দেওয়া হয়েছিল। তবে, মোদীও পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েননি। এর পরের জনসভায় এসে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “ঝালমুড়ি কিছু লোককে জোরে ধাক্কা দিয়েছে। আমি ঝালমুড়ি খেয়েছি। কিন্তু, ঝাল লেগেছে তৃণমূলের।”পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক জয়ের পর বিজেপির তরফ থেকে মিষ্টির পাশাপাশি রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে ঝালমুড়ি বিতরণ করা হবে বলেও আগে ঘোষণা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে পালাবদলের পর গত কয়েক দিনে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের সেই ঝালমুড়ি বিলি করার দৃশ্যও ধরা পড়েছে। আর, এবার সেই রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ঝালমুড়িকে খোদ বিদেশের মাটিতেও পৌঁছে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।ছ’দিনের এই মেগা বিদেশ সফরে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং নেদারল্যান্ডসের সফর চুকিয়ে এর পর পর্যায়ক্রমে নরওয়ে, সুইডেন এবং ইটালিতেও যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। 

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার