Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

"৬৫০ পাব!" বলেছিলেন মেধাবী প্রদীপ, পরীক্ষা বাতিল হতেই মিলল তাঁরই ঝুলন্ত দেহ!

"৬৫০ পাব!" বলেছিলেন মেধাবী প্রদীপ, পরীক্ষা বাতিল হতেই মিলল তাঁরই ঝুলন্ত দেহ!
ছবি সংগৃহীত

জয়পুর: দেশজুড়ে নিট (NEET UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তারপর আচমকা পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়ার মাশুল এবার দিতে হল এক তরতাজা প্রাণকে। রাজস্থানের সীকরে এক নিট পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত তরুণের নাম প্রদীপ মাহিচ। পরিবারের দাবি, পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর থেকেই চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন প্রদীপ। আর, সেই ধাক্কা সামলাতে না পেরেই নিজের ঘরে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি।


গত ৩ মে দেশজুড়ে সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু, এর মাত্র কয়েকদিন পরই - গত ৭ মে প্রশ্ন ফাঁসের কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে। দেশব্যাপী তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে গত ১২ মে পরীক্ষা বাতিলের চূড়ান্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। এই ঘোষণার পর থেকেই মানসিক চাপ নিতে পারছিলেন না বহু পরীক্ষার্থী।


মৃত প্রদীপের বাবা রাজেশ কুমার মেঘওয়াল ছেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি জানান, এবার নিট পরীক্ষা দেওয়ার পর প্রদীপ অত্যন্ত আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী ছিল। পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরেই সে জানিয়েছিল, অন্তত ৬৫০ নম্বর পাবেই এবং সরকারি মেডিক্যাল কলেজে তাঁর সুযোগ পাওয়া একপ্রকার নিশ্চিত।


কিন্তু, পরীক্ষার চারদিনের মাথায় যখন প্রশ্নফাঁসের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন থেকেই গভীর চিন্তায় ডুবে যান প্রদীপ। এরপর গত ১২ মে যখন পরীক্ষা বাতিলের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি জারি হয়, তখন মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু, এই অবসাদের জেরে ছেলে যে এতটা চরম ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে, তা পরিবারের কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজস্থানের ঝুনঝুনুর বাসিন্দা প্রদীপ নিটের প্রস্তুতির জন্য সীকরে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তাঁর দিদি এবং বোনও একই সঙ্গে সীকরের একটি সংস্থায় কোচিং করছিলেন। তিন ভাইবোন একসঙ্গেই ওই ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।


ঘটনার দিন শুক্রবার প্রদীপের বোন যথারীতি কোচিং ক্লাসে গিয়েছিলেন। বাড়িতে তখন ছিলেন প্রদীপ ও তাঁর দিদি। দিদি যখন বাথরুমে যান, ঠিক সেই সুযোগেই ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন প্রদীপ। দিদি বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে ভাইয়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করে বাড়িওয়ালাকে ডাকেন। তড়িঘড়ি পুলিশকে খবর দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা প্রদীপকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরীক্ষাব্যবস্থার এই চরম গাফিলতি ও কেলেঙ্কারি একজন প্রতিভাবান ছাত্রের জীবন কেড়ে নেওয়ায় নিট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মৃতের পরিবারের সদস্য ও সহপাঠীরা।

বিষয় : STUDENTSUICIDE neetpaperleak neetaspirant

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


"৬৫০ পাব!" বলেছিলেন মেধাবী প্রদীপ, পরীক্ষা বাতিল হতেই মিলল তাঁরই ঝুলন্ত দেহ!

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image
জয়পুর: দেশজুড়ে নিট (NEET UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তারপর আচমকা পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়ার মাশুল এবার দিতে হল এক তরতাজা প্রাণকে। রাজস্থানের সীকরে এক নিট পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত তরুণের নাম প্রদীপ মাহিচ। পরিবারের দাবি, পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর থেকেই চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন প্রদীপ। আর, সেই ধাক্কা সামলাতে না পেরেই নিজের ঘরে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি।গত ৩ মে দেশজুড়ে সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু, এর মাত্র কয়েকদিন পরই - গত ৭ মে প্রশ্ন ফাঁসের কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে। দেশব্যাপী তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে গত ১২ মে পরীক্ষা বাতিলের চূড়ান্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। এই ঘোষণার পর থেকেই মানসিক চাপ নিতে পারছিলেন না বহু পরীক্ষার্থী।মৃত প্রদীপের বাবা রাজেশ কুমার মেঘওয়াল ছেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি জানান, এবার নিট পরীক্ষা দেওয়ার পর প্রদীপ অত্যন্ত আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী ছিল। পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরেই সে জানিয়েছিল, অন্তত ৬৫০ নম্বর পাবেই এবং সরকারি মেডিক্যাল কলেজে তাঁর সুযোগ পাওয়া একপ্রকার নিশ্চিত।কিন্তু, পরীক্ষার চারদিনের মাথায় যখন প্রশ্নফাঁসের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন থেকেই গভীর চিন্তায় ডুবে যান প্রদীপ। এরপর গত ১২ মে যখন পরীক্ষা বাতিলের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি জারি হয়, তখন মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু, এই অবসাদের জেরে ছেলে যে এতটা চরম ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে, তা পরিবারের কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজস্থানের ঝুনঝুনুর বাসিন্দা প্রদীপ নিটের প্রস্তুতির জন্য সীকরে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তাঁর দিদি এবং বোনও একই সঙ্গে সীকরের একটি সংস্থায় কোচিং করছিলেন। তিন ভাইবোন একসঙ্গেই ওই ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।ঘটনার দিন শুক্রবার প্রদীপের বোন যথারীতি কোচিং ক্লাসে গিয়েছিলেন। বাড়িতে তখন ছিলেন প্রদীপ ও তাঁর দিদি। দিদি যখন বাথরুমে যান, ঠিক সেই সুযোগেই ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন প্রদীপ। দিদি বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে ভাইয়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করে বাড়িওয়ালাকে ডাকেন। তড়িঘড়ি পুলিশকে খবর দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা প্রদীপকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরীক্ষাব্যবস্থার এই চরম গাফিলতি ও কেলেঙ্কারি একজন প্রতিভাবান ছাত্রের জীবন কেড়ে নেওয়ায় নিট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মৃতের পরিবারের সদস্য ও সহপাঠীরা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার