ফলতা: রাজ্যে পালাবদলের পর এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভাকেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত ফলতায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে চরম হুঙ্কার ছাড়লেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভাকেন্দ্রে হাইভোল্টেজ পুনর্নির্বাচন। সেই নির্বাচনের প্রচারে শনিবার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে এক মেগা জনসভায় যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আর, সেই মঞ্চ থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে সদ্য ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিতি লাভ করা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানকে তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘কোথায় ওই ডাকাতটা? পুষ্পা না কী যেন নাম! ওর ব্যবস্থা আমি করব। সেই দায়িত্ব আপনারা শুধু আমার উপর ছেড়ে দিন।’’
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা দুঁদে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা জাহাঙ্গীরের বাড়িতে গিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তারপরই প্রকাশ্য জনসভায় জাহাঙ্গীর খান চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, ওই পুলিশ আধিকারিক ‘সিংহম’ হলে তিনিও ‘পুষ্পা’ এবং স্বভাবসিদ্ধ ফিল্মি কায়দায় বলেছিলেন, ‘‘ঝুঁকেগা নেহি!’’ পরবর্তীতে এই কেন্দ্রে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগে নির্বাচনই বাতিল করে দেয় কমিশন। এর মাঝে রাজ্যে ঘটে গিয়েছে ঐতিহাসিক পালাবদল, পতন হয়েছে তৃণমূল সরকারের। ঘটনাচক্রে, ফলতায় পুনর্নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর প্রায় দিন দশেক লোকচক্ষুর আড়ালে বা অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন এই তৃণমূল নেতা।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম ডায়মন্ড হারবার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে এসে জাহাঙ্গীর খানকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই বাংলায় আর কোনও গুন্ডামি করতে দেব না। আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন। রাজনৈতিক বিরোধীদের ভয় দেখাতে সাদা থান বাড়িতে ফেলে দেওয়ার জমানা শেষ। কোথায় পুষ্পা, কোথায় আপনি? এখন আর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না কেন? ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ১৯ জনকে ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ ঘোষণা করেছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC), তার মধ্যে এই জাহাঙ্গীরও ছিল।”
প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন অন্তরালে থাকার পর গত শুক্রবারই পুলিশের হস্তক্ষেপে বেলসিংহে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন জাহাঙ্গীর। ফের বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয় খুলে তিনি আবারও হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, ‘‘ঝুঁকেগা নহি’’। তবে, শুভেন্দু এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। শুধু জাহাঙ্গীরই নন, নাম না করে এদিন ফলতার মঞ্চ থেকে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর কড়া হুঁশিয়ারি, বিগত দিনে যাঁদের নির্দেশে ফলতার সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার হয়েছে, তাঁদের সকলের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। এই চক্রান্তের পিছনে কার কার ভূমিকা ছিল, তা জানতে সকলের কল রেকর্ডস ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিনের নির্বাচনী সভা থেকে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডাকে অন্তত এক লাখ ভোটের ব্যবধানে জেতানোর জন্য ফলতাবাসীর কাছে আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে ফলতার জন্য একটি ‘স্পেশাল ডেভেলপমেন্ট প্যাকেজ’ও ঘোষণা করেন তিনি।
তৃণমূলের চড়া সুরের রাজনীতির সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, “আমরা বিরোধীদের মতো বলি না যে ৪ তারিখের পরে ডিজে বাজবে বা অত্যাচার হবে। আমাদের রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট বলেছেন, জয়লাভের পর অভিনন্দন যাত্রা করুন। কিন্তু, কোনও অনিচ্ছুক মানুষের গায়ে জোর করে আবির দেবেন না। এটাই হল ভারতীয় জনতা পার্টির সংস্কৃতি।” রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর ফলতার এই পুনর্নির্বাচন যে বিজেপির কাছে কত বড় প্রেস্টিজ ফাইট, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঝোড়ো প্রচারেই তা পরিষ্কার।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন