Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

পশুজবাই নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়করাই! গোপনে অধীরের দ্বারস্থ শাসক দল, সমাধান চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে চিঠি

পশুজবাই নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়করাই! গোপনে অধীরের দ্বারস্থ শাসক দল, সমাধান চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে চিঠি
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: সামনেই কোরবানির ইদ, আর তার আগেই রাজ্যে গবাদি পশু হত্যা এবং মাংস বিক্রি সংক্রান্ত নতুন সরকারি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক তোলপাড়। ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন অনুযায়ী রাজ্য সরকারের জারি করা নয়া বিধি ঘিরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে এক ধরণের বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আর এই আবহে পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সংখ্যালঘু মানুষের সামাজিক-ধর্মীয় রীতিনীতির মর্যাদা রক্ষা করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি জরুরি চিঠি পাঠালেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। সূত্রের খবর, নিজেদের দলের অন্দরে কোনও সুরাহা না পেয়ে খোদ তৃণমূল কংগ্রেসেরই বেশ কয়েকজন সংখ্যালঘু বিধায়ক গোপনে অধীর চৌধুরীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন এবং তাঁদের কাছ থেকে সমস্যার কথা জেনেই এই পদক্ষেপ করেছেন কংগ্রেস নেতা।


গত ১৩ মে রাজ্য সরকারের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, প্রশাসনের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া গবাদি পশু হত্যা করা যাবে না এবং ১৪ বছরের কম বয়সী কোনও পশুকে জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি মাংস কাটার ক্ষেত্রেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রাণিসম্পদ দফতরের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই মালদহ ও মুর্শিদাবাদের বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক দলের অন্দরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিধানসভার পরিষদীয় দলের এক প্রবীণ নেতার কাছে এক ব্যবসায়ী-বিধায়ক দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই নিয়ে অবিলম্বে স্মারকলিপি দেওয়া উচিত। কিন্তু জবাবে প্রবীণ নেতা জানান যে, এই বিষয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। দলের এই ঢিলেঢালা মনোভাব ও শীর্ষ নেতৃত্বের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক বিধায়ক পাল্টা বলেন, “আমরা মানুষের বিধায়ক, মানুষের সমস্যা বোঝাটা আগে জরুরি।” এরপরই তাঁরা দলগত গণ্ডি পেরিয়ে ‘অধীরদা’-র মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের সিদ্ধান্ত নেন।


মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লেখা চিঠিতে অধীর চৌধুরী মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি ও বহু ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক মিলনভূমি। বহু বছর ধরে এ রাজ্যে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের মতো করে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মাচরণ করে আসছেন। নতুন এই নিয়মের জেরে বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের মানুষের মনে যে আশঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা দূর করার দায়িত্ব সরকারেরই। এই অচলাবস্থা কাটাতে মুখ্যমন্ত্রীকে একটি বাস্তবসম্মত পরামর্শও দিয়েছেন অধীর। তিনি প্রস্তাব করেছেন, জেলা প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রতিটি এলাকায় কিছু নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে দিক, যেখানে মানুষ তাঁদের প্রচলিত ধর্মীয় রীতিনীতি ও ঐতিহ্য মেনে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মাচরণ করতে পারবেন। এতে যেমন আমজনতার বিভ্রান্তি দূর হবে, তেমনই বজায় থাকবে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী দফতরে অধীর চৌধুরীর এই চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করা হয়েছে, তবে সরকারের তরফে এই বিষয়ে পরবর্তী কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

বিষয় : BengalPolitics SuvenduAdhikari animalslaughterlaw adhirchoudhury

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


পশুজবাই নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়করাই! গোপনে অধীরের দ্বারস্থ শাসক দল, সমাধান চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে চিঠি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: সামনেই কোরবানির ইদ, আর তার আগেই রাজ্যে গবাদি পশু হত্যা এবং মাংস বিক্রি সংক্রান্ত নতুন সরকারি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক তোলপাড়। ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন অনুযায়ী রাজ্য সরকারের জারি করা নয়া বিধি ঘিরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে এক ধরণের বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আর এই আবহে পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সংখ্যালঘু মানুষের সামাজিক-ধর্মীয় রীতিনীতির মর্যাদা রক্ষা করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি জরুরি চিঠি পাঠালেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। সূত্রের খবর, নিজেদের দলের অন্দরে কোনও সুরাহা না পেয়ে খোদ তৃণমূল কংগ্রেসেরই বেশ কয়েকজন সংখ্যালঘু বিধায়ক গোপনে অধীর চৌধুরীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন এবং তাঁদের কাছ থেকে সমস্যার কথা জেনেই এই পদক্ষেপ করেছেন কংগ্রেস নেতা।গত ১৩ মে রাজ্য সরকারের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, প্রশাসনের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া গবাদি পশু হত্যা করা যাবে না এবং ১৪ বছরের কম বয়সী কোনও পশুকে জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি মাংস কাটার ক্ষেত্রেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রাণিসম্পদ দফতরের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই মালদহ ও মুর্শিদাবাদের বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক দলের অন্দরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিধানসভার পরিষদীয় দলের এক প্রবীণ নেতার কাছে এক ব্যবসায়ী-বিধায়ক দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই নিয়ে অবিলম্বে স্মারকলিপি দেওয়া উচিত। কিন্তু জবাবে প্রবীণ নেতা জানান যে, এই বিষয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। দলের এই ঢিলেঢালা মনোভাব ও শীর্ষ নেতৃত্বের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক বিধায়ক পাল্টা বলেন, “আমরা মানুষের বিধায়ক, মানুষের সমস্যা বোঝাটা আগে জরুরি।” এরপরই তাঁরা দলগত গণ্ডি পেরিয়ে ‘অধীরদা’-র মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের সিদ্ধান্ত নেন।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লেখা চিঠিতে অধীর চৌধুরী মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি ও বহু ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক মিলনভূমি। বহু বছর ধরে এ রাজ্যে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের মতো করে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মাচরণ করে আসছেন। নতুন এই নিয়মের জেরে বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের মানুষের মনে যে আশঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা দূর করার দায়িত্ব সরকারেরই। এই অচলাবস্থা কাটাতে মুখ্যমন্ত্রীকে একটি বাস্তবসম্মত পরামর্শও দিয়েছেন অধীর। তিনি প্রস্তাব করেছেন, জেলা প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রতিটি এলাকায় কিছু নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে দিক, যেখানে মানুষ তাঁদের প্রচলিত ধর্মীয় রীতিনীতি ও ঐতিহ্য মেনে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মাচরণ করতে পারবেন। এতে যেমন আমজনতার বিভ্রান্তি দূর হবে, তেমনই বজায় থাকবে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী দফতরে অধীর চৌধুরীর এই চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করা হয়েছে, তবে সরকারের তরফে এই বিষয়ে পরবর্তী কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার