Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর মহানিষ্ক্রমণ? ঝাঁ-চকচকে বাংলো ছেড়ে পটনার আশ্রমে আস্তানা প্রশান্ত কিশোরের!

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর মহানিষ্ক্রমণ? ঝাঁ-চকচকে বাংলো ছেড়ে পটনার আশ্রমে আস্তানা প্রশান্ত কিশোরের!
ছবি: সংগৃহীত

দ্বারভাঙা: ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে খাতাই খুলতে পারেনি প্রশান্ত কিশোরের দল ‘জন সুরজ’। এই চরম নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর এবার নিজের রণকৌশল ও জীবনযাত্রায় বড়সড় বদল আনলেন পিকে। পটনা বিমানবন্দরের কাছের বিলাসবহুল ও রাজকীয় ‘শেখপুরা হাউস’ বাংলো ছেড়ে এবার পটনার উপকণ্ঠে একটি নিভৃত আশ্রমে চলে গেলেন তিনি। বুধবার বিহারের দ্বারভাঙায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশান্ত কিশোর নিজেই এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।


আইপ্যাক (I-PAC)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর জানান, গত মঙ্গলবার রাতেই তিনি পটনার পূর্বতন বাসস্থান ছেড়ে চলে এসেছেন। আইআইটি-পটনা (IIT-Patna)-র কাছে অবস্থিত বিহার নবনির্মাণ আশ্রম-ই হতে চলেছে তাঁর আগামী কয়েক বছরের অস্থায়ী ঠিকানা। পিকের স্পষ্ট ঘোষণা, “আগামী বিধানসভা নির্বাচনে যত দিন না জন সুরজ পার্টি বিহারের রাজনীতিতে নিজের জায়গা প্রতিষ্ঠা করতে পারছে, তত দিন আমি এই আশ্রমেই থাকব এবং এখান থেকেই সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করব।”


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক কনসালটেন্সি ছেড়ে দল গঠনের পর থেকে পিকে পটনার যে ‘শেখপুরা হাউস’ থেকে দল চালাতেন, সেটি আসলে জন সুরজ পার্টির জাতীয় সভাপতি তথা প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ উদয় সিংয়ের পরিবারের মালিকানাধীন একটি বিশাল বাংলো। উদয় সিং বিহারের অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য, যাঁর দাদা এন কে সিং পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং মা মাধুরী সিং ছিলেন কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ। সেই ঝাঁ-চকচকে কর্পোরেট ধাঁচের সদর দফতর ছেড়ে পিকের এই আশ্রমে চলে যাওয়াকে রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। ২০২৫-এর নির্বাচনে ২৩৮টি আসনে লড়াই করে মাত্র ৩.৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ার পর, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পিকে একবারে মাটির স্তর থেকে সংগঠনকে পুনর্গঠন করতে চাইছেন।


এদিন দ্বারভাঙায় দাঁড়িয়ে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকেও তীব্র আক্রমণ শানান জেডিইউ-এর এই প্রাক্তন সহ-সভাপতি। নীতীশ কুমারের রাজ্যসভায় যাওয়া এবং তাঁর ছেলে নিশান্ত কুমারের সদ্য বিহার ক্যাবিনেটে মন্ত্রী হওয়াকে কটাক্ষ করে পিকে বলেন, “যিনি মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন, তিনি রাজ্যের অর্থনৈতিক দুর্দশাজনিত পরিযায়ী সমস্যা রুখতে পারেননি। উলটে নিজের ছেলেকে গদিতে বসিয়ে নিজে রাজ্যসভায় ‘মাইগ্রেট’ হয়ে গেলেন।” 


একই সঙ্গে বিহারের ভোটারদের উদ্দেশ্যে পিকের বার্তা, তাঁরা যেন জাতপাত, ধর্ম কিংবা রাজ্য সরকারের নির্বাচনী প্রকল্পের ১০,০০০ টাকার প্রলোভনে পা না দিয়ে নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভোট দেন। নরেন্দ্র মোদী, নীতীশ কুমার বা লালু প্রসাদের মতো নেতাদের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে বিহারের মানুষকে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিষয় : biharpolitics PRASHANTKISHOR JANSURAJPARTY patnaashram

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর মহানিষ্ক্রমণ? ঝাঁ-চকচকে বাংলো ছেড়ে পটনার আশ্রমে আস্তানা প্রশান্ত কিশোরের!

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image
দ্বারভাঙা: ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে খাতাই খুলতে পারেনি প্রশান্ত কিশোরের দল ‘জন সুরজ’। এই চরম নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর এবার নিজের রণকৌশল ও জীবনযাত্রায় বড়সড় বদল আনলেন পিকে। পটনা বিমানবন্দরের কাছের বিলাসবহুল ও রাজকীয় ‘শেখপুরা হাউস’ বাংলো ছেড়ে এবার পটনার উপকণ্ঠে একটি নিভৃত আশ্রমে চলে গেলেন তিনি। বুধবার বিহারের দ্বারভাঙায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশান্ত কিশোর নিজেই এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।আইপ্যাক (I-PAC)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর জানান, গত মঙ্গলবার রাতেই তিনি পটনার পূর্বতন বাসস্থান ছেড়ে চলে এসেছেন। আইআইটি-পটনা (IIT-Patna)-র কাছে অবস্থিত বিহার নবনির্মাণ আশ্রম-ই হতে চলেছে তাঁর আগামী কয়েক বছরের অস্থায়ী ঠিকানা। পিকের স্পষ্ট ঘোষণা, “আগামী বিধানসভা নির্বাচনে যত দিন না জন সুরজ পার্টি বিহারের রাজনীতিতে নিজের জায়গা প্রতিষ্ঠা করতে পারছে, তত দিন আমি এই আশ্রমেই থাকব এবং এখান থেকেই সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করব।”উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক কনসালটেন্সি ছেড়ে দল গঠনের পর থেকে পিকে পটনার যে ‘শেখপুরা হাউস’ থেকে দল চালাতেন, সেটি আসলে জন সুরজ পার্টির জাতীয় সভাপতি তথা প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ উদয় সিংয়ের পরিবারের মালিকানাধীন একটি বিশাল বাংলো। উদয় সিং বিহারের অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য, যাঁর দাদা এন কে সিং পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং মা মাধুরী সিং ছিলেন কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ। সেই ঝাঁ-চকচকে কর্পোরেট ধাঁচের সদর দফতর ছেড়ে পিকের এই আশ্রমে চলে যাওয়াকে রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। ২০২৫-এর নির্বাচনে ২৩৮টি আসনে লড়াই করে মাত্র ৩.৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ার পর, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পিকে একবারে মাটির স্তর থেকে সংগঠনকে পুনর্গঠন করতে চাইছেন।এদিন দ্বারভাঙায় দাঁড়িয়ে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকেও তীব্র আক্রমণ শানান জেডিইউ-এর এই প্রাক্তন সহ-সভাপতি। নীতীশ কুমারের রাজ্যসভায় যাওয়া এবং তাঁর ছেলে নিশান্ত কুমারের সদ্য বিহার ক্যাবিনেটে মন্ত্রী হওয়াকে কটাক্ষ করে পিকে বলেন, “যিনি মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন, তিনি রাজ্যের অর্থনৈতিক দুর্দশাজনিত পরিযায়ী সমস্যা রুখতে পারেননি। উলটে নিজের ছেলেকে গদিতে বসিয়ে নিজে রাজ্যসভায় ‘মাইগ্রেট’ হয়ে গেলেন।” একই সঙ্গে বিহারের ভোটারদের উদ্দেশ্যে পিকের বার্তা, তাঁরা যেন জাতপাত, ধর্ম কিংবা রাজ্য সরকারের নির্বাচনী প্রকল্পের ১০,০০০ টাকার প্রলোভনে পা না দিয়ে নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভোট দেন। নরেন্দ্র মোদী, নীতীশ কুমার বা লালু প্রসাদের মতো নেতাদের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে বিহারের মানুষকে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার