নয়াদিল্লি: আফ্রিকায় নতুন করে মারাত্মক ছোঁয়াচে ও প্রাণঘাতী ‘ইবোলা’ ভাইরাসের তাণ্ডবের জেরে বড়সড় ধাক্কা খেল আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল। উদ্ভূত এই উদ্বেগজনক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে চলা হাই-প্রোফাইল চতুর্থ ‘ভারত-আফ্রিকা ফোরাম সামিট’ আপাতত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ভারত সরকার এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন (AU)-এর মধ্যে আলোচনার পরেই যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারতেও উচ্চপর্যায়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
গোড়া থেকেই উদ্বেগের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল আফ্রিকার ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোকে ঘিরে। সেখানে বর্তমানে থাবা বসিয়েছে ইবোলার অত্যন্ত বিরল ও বিপজ্জনক ‘বুন্দিবুজো’ (Bundibugyo) স্ট্রেন। এই স্ট্রেনের ভয়াবহ সংক্রমণকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতিমধ্যেই ‘জনস্বাস্থ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা’ (Public Health Emergency of International Concern) বলে ঘোষণা করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা বাড়িয়ে হু জানিয়েছে, ইবোলার এই নির্দিষ্ট স্ট্রেনটির প্রতিরোধে এখনও পর্যন্ত কোনও অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট ওষুধ তৈরি হয়নি। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কঙ্গোয় ইতিমধ্যেই ইবোলার কামড়ে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬০০ ছুঁইছুঁই। শুধু কঙ্গো নয়, প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে শুরু করেছে।
এই আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সঙ্কটের জেরেই দিল্লির মেগা সামিট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আফ্রিকার কিছু অংশে উদ্ভূত বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই সম্মেলনটি আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। তবে এই কঠিন সময়ে আফ্রিকার মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত জানিয়েছে, ‘আফ্রিকা সিডিসি’ (Africa CDC)-র মাধ্যমে সেখানকার জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে ভারত সবরকম চিকিৎসা ও প্রযুক্তিগত সাহায্য করবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুতই সামিটের নতুন দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।
ভারতে এখনও পর্যন্ত কোনও ইবোলা আক্রান্তের খোঁজ না মিললেও, আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কোমর বাঁধছে কেন্দ্র। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব পুণ্য সলিলা শ্রীবাস্তব বুধবার (২০ মে) দেশের সবকটি রাজ্যের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস (DGHS)-এর তরফে কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান থেকে আসা বিমানযাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা ও হেলথ অ্যাডভাইজরি জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলিতে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়ে জানানো হয়েছে, আফ্রিকা ফেরত কোনও যাত্রীর শরীরে জ্বর, বমি, কিংবা অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দিলে, তাঁদের তৎক্ষণাৎ বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের জানাতে হবে এবং আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন