Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

পিওকে-তে খতম পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড, অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজদের গুলিতে ঝাঁঝরা ‘ডাক্তার’!

পিওকে-তে খতম পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড, অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজদের গুলিতে ঝাঁঝরা ‘ডাক্তার’!
ছবি সংগৃহীত

নয়াদিল্লি: ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে ভয়াবহ আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার অন্যতম প্রধান চক্রী তথা মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান নিহত হয়েছে। গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) আত্মগোপন করে থাকা এই জঙ্গিকে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজরা গুলি করে খতম করেছে। তার শরীরে একাধিক বুলেটের ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। ভারতের মাটিতে অন্যতম নৃশংস জঙ্গি হামলার নেপথ্যে থাকা এই খলনায়কের মৃত্যু জেরে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কে বড়সড় ধাক্কা লাগল বলে মনে করা হচ্ছে।


নিহত এই জঙ্গির আসল নাম অর্জুমন্দ গুলজার দার। তবে জঙ্গি সংগঠনে এবং উপত্যকায় সে হামজা বুরহান এবং ‘ডাক্তার’ নামেই অধিক পরিচিত ছিল। আদতে দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার রতনিপোরা এলাকার খারবাতপোরার বাসিন্দা হামজা ২০১৭ সালে উচ্চশিক্ষার অজুহাত দেখিয়ে কাশ্মীর ছাড়ে। কিন্তু পড়াশোনা নয়, তার আসল গন্তব্য ছিল পাকিস্তান। সেখানে গিয়ে সে পাকিস্তান মদতপুষ্ট নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘আল-বদর’-এ যোগ দেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের উগ্রতার প্রমাণ দিয়ে ওই সংগঠনের শীর্ষ কমান্ডারের পদে বসে পড়ে সে। এরপর দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা থেকে শোপিয়ান পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় নিজের নেটওয়ার্ক তৈরি করে স্থানীয় যুবকদের মগজধোলাই এবং জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগের মূল দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল হামজা।


২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলায় ভারতের ৪০ জন বীর সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। গোয়েন্দা তদন্তে উঠে আসে, ওই হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম ছিল এই হামজা। হামলাকারী আত্মঘাতী জঙ্গিদের আইইডি বিস্ফোরক, গ্রেনেড ও অন্যান্য মারণাস্ত্র জোগানোর মূল কারিগর ছিল সে-ই। এই ঘটনার পরেই ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানের বালাকোটে ঢুকে এয়ার স্ট্রাইক চালিয়ে জঙ্গি শিবির ধ্বংস করেছিল। শুধু পুলওয়ামাই নয়, ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর সিআরপিএফ জওয়ানদের ওপর হওয়া অপর একটি জঙ্গি হামলাতেও সরাসরি নাম জড়িয়েছিল এই ‘ডাক্তার’-এর। ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তার খোঁজে লাগাতার তল্লাশি চালাচ্ছিল। বেগতিক বুঝে সে কোনওরকমে সীমান্ত পেরিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পালিয়ে যায় এবং সেখানে বসেই ভারতবিরোধী কার্যকলাপ চালাচ্ছিল। ২০২২ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বা জঙ্গি বলে ঘোষণা করে।


সূত্রের খবর, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নিরাপদ আশ্রয়ে লুকিয়ে থাকা অবস্থাতেই অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজদের আকস্মিক হামলার মুখে পড়ে হামজা। ঘটনাস্থলেই গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় সে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন বা গোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মাটিতে ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা একাধিক শীর্ষ জঙ্গি নেতার এই ধরনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হামজার এই পরিণতি উপত্যকার বাকি সক্রিয় জঙ্গি ও তাদের হ্যান্ডলারদের মনে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

বিষয় : pulwamaattack hamzaburhankilled

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


পিওকে-তে খতম পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড, অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজদের গুলিতে ঝাঁঝরা ‘ডাক্তার’!

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে ভয়াবহ আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার অন্যতম প্রধান চক্রী তথা মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান নিহত হয়েছে। গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) আত্মগোপন করে থাকা এই জঙ্গিকে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজরা গুলি করে খতম করেছে। তার শরীরে একাধিক বুলেটের ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। ভারতের মাটিতে অন্যতম নৃশংস জঙ্গি হামলার নেপথ্যে থাকা এই খলনায়কের মৃত্যু জেরে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কে বড়সড় ধাক্কা লাগল বলে মনে করা হচ্ছে।নিহত এই জঙ্গির আসল নাম অর্জুমন্দ গুলজার দার। তবে জঙ্গি সংগঠনে এবং উপত্যকায় সে হামজা বুরহান এবং ‘ডাক্তার’ নামেই অধিক পরিচিত ছিল। আদতে দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার রতনিপোরা এলাকার খারবাতপোরার বাসিন্দা হামজা ২০১৭ সালে উচ্চশিক্ষার অজুহাত দেখিয়ে কাশ্মীর ছাড়ে। কিন্তু পড়াশোনা নয়, তার আসল গন্তব্য ছিল পাকিস্তান। সেখানে গিয়ে সে পাকিস্তান মদতপুষ্ট নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘আল-বদর’-এ যোগ দেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের উগ্রতার প্রমাণ দিয়ে ওই সংগঠনের শীর্ষ কমান্ডারের পদে বসে পড়ে সে। এরপর দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা থেকে শোপিয়ান পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় নিজের নেটওয়ার্ক তৈরি করে স্থানীয় যুবকদের মগজধোলাই এবং জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগের মূল দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল হামজা।২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলায় ভারতের ৪০ জন বীর সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। গোয়েন্দা তদন্তে উঠে আসে, ওই হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম ছিল এই হামজা। হামলাকারী আত্মঘাতী জঙ্গিদের আইইডি বিস্ফোরক, গ্রেনেড ও অন্যান্য মারণাস্ত্র জোগানোর মূল কারিগর ছিল সে-ই। এই ঘটনার পরেই ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানের বালাকোটে ঢুকে এয়ার স্ট্রাইক চালিয়ে জঙ্গি শিবির ধ্বংস করেছিল। শুধু পুলওয়ামাই নয়, ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর সিআরপিএফ জওয়ানদের ওপর হওয়া অপর একটি জঙ্গি হামলাতেও সরাসরি নাম জড়িয়েছিল এই ‘ডাক্তার’-এর। ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তার খোঁজে লাগাতার তল্লাশি চালাচ্ছিল। বেগতিক বুঝে সে কোনওরকমে সীমান্ত পেরিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পালিয়ে যায় এবং সেখানে বসেই ভারতবিরোধী কার্যকলাপ চালাচ্ছিল। ২০২২ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বা জঙ্গি বলে ঘোষণা করে।সূত্রের খবর, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নিরাপদ আশ্রয়ে লুকিয়ে থাকা অবস্থাতেই অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজদের আকস্মিক হামলার মুখে পড়ে হামজা। ঘটনাস্থলেই গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় সে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন বা গোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মাটিতে ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা একাধিক শীর্ষ জঙ্গি নেতার এই ধরনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হামজার এই পরিণতি উপত্যকার বাকি সক্রিয় জঙ্গি ও তাদের হ্যান্ডলারদের মনে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার