Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

সোনা পাপ্পু কাণ্ডে ইডির মহা-অপারেশন! সাতসকালে শহরজুড়ে হানা, তালা ভেঙে ডিসি শান্তনুর রাজপ্রাসাদে অফিসারেরা

সোনা পাপ্পু কাণ্ডে ইডির মহা-অপারেশন! সাতসকালে শহরজুড়ে হানা, তালা ভেঙে ডিসি শান্তনুর রাজপ্রাসাদে অফিসারেরা
সোনা পাপ্পু কাণ্ডে ইডির মহা-অপারেশন। ছবি-সংগৃহীত

কলকাতা: সোনা পাপ্পু ও জমি দুর্নীতি মামলায় এবার রাজ্যজুড়ে অল-আউট অ্যাকশনে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শুক্রবার সাতসকালেই কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ— একযোগে একাধিক হাই-প্রোফাইল ঠিকানায় হানা দিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। এই মেগা স্ক্যামে ইডি হেফাজতে থাকা কসবার ত্রাস সোনা পাপ্পু এবং কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে জেরা করে পাওয়া বিস্ফোরক তথ্যের ভিত্তিতেই এই ‘মেগা অপারেশন’ চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। তদন্তের জল এতটাই গড়িয়েছে যে, প্রাক্তন ডিসিপির কান্দির বিলাসবহুল প্রাসাদের তালা ভেঙে শেষমেশ ভেতরে ঢুকতে হয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অফিসারদের।

আজ সকালে কলকাতায় ইডির একাধিক টিম একযোগে অভিযানে নামে। ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া এলাকায় সোনা পাপ্পুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দেন ইডি অফিসাররা। জোর করে জমি দখল এবং কোটি কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেনে এই ব্যবসায়ীর কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। অন্যদিকে, রয়েড স্ট্রিটের একটি নামী হোটেলেও হানা দেয় ইডির আরেকটি দল। সেখানে ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে হোটেলের ভেতর তল্লাশি শুরু করার পাশাপাশি হোটেলের মালিককে ইতিমধ্যেই তলব করা হয়েছে। একই সময়ে কসবায় কলকাতা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন আলি শার বাড়িতেও চলে জোর তল্লাশি। এই পুলিশকর্মী ওয়েলফেয়ার কমিটির প্রাক্তন কর্মকর্তা এবং ধৃত ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। শুধু তাই নয়, তদন্তে জানা গিয়েছে যে এই পুলিশকর্মী খোদ ডিসিপির স্ত্রীর ব্যবসায়িক পার্টনার। ফলে জমি দুর্নীতির কালো টাকা এই ব্যবসার মাধ্যমে সাদা করা হতো কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকেরা।

কলকাতার পাশাপাশি ইডির একটি বড় দল আজ সকালে পৌঁছে যায় মুর্শিদাবাদের কান্দি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে, যেখানে প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহার সেই বহুল চর্চিত প্রাসাদোপম পৈতৃক বাড়িটি রয়েছে। এই বাড়িতেই থাকতেন শান্তনুর বোন তথা কান্দি পুরসভার তৃণমূলের ভাইস চেয়ারম্যান গৌরী সিনহা বিশ্বাস। তবে দাদা গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই গত সাত দিন ধরে বাড়িটি রহস্যজনকভাবে তালাবন্ধ ছিল। আজ সকালে ইডি অফিসাররা সেখানে পৌঁছে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক অপেক্ষা করার পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে অবশেষে বাধ্য হয়েই তালা ভেঙে শান্তনুর সেই ‘শ্বেতপাথরের মহলে’ প্রবেশ করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, প্রাসাদের ভেতরে থাকা আলমারি ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ঘেঁটে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডি অফিসাররা।

কসবা এলাকার ত্রাস সোনা পাপ্পুকে জোর করে জমি দখল, অবৈধ নির্মাণ এবং আর্থিক তছরুপের গুরুতর অভিযোগে আগেই গ্রেফতার করেছিল ইডি। তাকে আড়াল করার এবং তোলাবাজির চক্র চালানোর অভিযোগে পরবর্তীতে জালে পোরা হয় প্রভাবশালী পুলিশকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও এক ব্যবসায়ীকে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের জাল শুধু পুলিশ বা প্রোমোটারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে রয়েছে এক মস্ত বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি। আজ জেরা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যে সব ডেরায় হানা দেওয়া হল, সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্য ও নথিপত্র এই মামলার মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : KOLKATAPOLICE KANDIPALACE SonaPappuScam EDRaidKolkata ShantanuSinhaBiswas

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


সোনা পাপ্পু কাণ্ডে ইডির মহা-অপারেশন! সাতসকালে শহরজুড়ে হানা, তালা ভেঙে ডিসি শান্তনুর রাজপ্রাসাদে অফিসারেরা

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: সোনা পাপ্পু ও জমি দুর্নীতি মামলায় এবার রাজ্যজুড়ে অল-আউট অ্যাকশনে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শুক্রবার সাতসকালেই কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ— একযোগে একাধিক হাই-প্রোফাইল ঠিকানায় হানা দিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। এই মেগা স্ক্যামে ইডি হেফাজতে থাকা কসবার ত্রাস সোনা পাপ্পু এবং কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে জেরা করে পাওয়া বিস্ফোরক তথ্যের ভিত্তিতেই এই ‘মেগা অপারেশন’ চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। তদন্তের জল এতটাই গড়িয়েছে যে, প্রাক্তন ডিসিপির কান্দির বিলাসবহুল প্রাসাদের তালা ভেঙে শেষমেশ ভেতরে ঢুকতে হয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অফিসারদের।আজ সকালে কলকাতায় ইডির একাধিক টিম একযোগে অভিযানে নামে। ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া এলাকায় সোনা পাপ্পুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দেন ইডি অফিসাররা। জোর করে জমি দখল এবং কোটি কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেনে এই ব্যবসায়ীর কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। অন্যদিকে, রয়েড স্ট্রিটের একটি নামী হোটেলেও হানা দেয় ইডির আরেকটি দল। সেখানে ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে হোটেলের ভেতর তল্লাশি শুরু করার পাশাপাশি হোটেলের মালিককে ইতিমধ্যেই তলব করা হয়েছে। একই সময়ে কসবায় কলকাতা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন আলি শার বাড়িতেও চলে জোর তল্লাশি। এই পুলিশকর্মী ওয়েলফেয়ার কমিটির প্রাক্তন কর্মকর্তা এবং ধৃত ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। শুধু তাই নয়, তদন্তে জানা গিয়েছে যে এই পুলিশকর্মী খোদ ডিসিপির স্ত্রীর ব্যবসায়িক পার্টনার। ফলে জমি দুর্নীতির কালো টাকা এই ব্যবসার মাধ্যমে সাদা করা হতো কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকেরা।কলকাতার পাশাপাশি ইডির একটি বড় দল আজ সকালে পৌঁছে যায় মুর্শিদাবাদের কান্দি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে, যেখানে প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহার সেই বহুল চর্চিত প্রাসাদোপম পৈতৃক বাড়িটি রয়েছে। এই বাড়িতেই থাকতেন শান্তনুর বোন তথা কান্দি পুরসভার তৃণমূলের ভাইস চেয়ারম্যান গৌরী সিনহা বিশ্বাস। তবে দাদা গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই গত সাত দিন ধরে বাড়িটি রহস্যজনকভাবে তালাবন্ধ ছিল। আজ সকালে ইডি অফিসাররা সেখানে পৌঁছে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক অপেক্ষা করার পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে অবশেষে বাধ্য হয়েই তালা ভেঙে শান্তনুর সেই ‘শ্বেতপাথরের মহলে’ প্রবেশ করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, প্রাসাদের ভেতরে থাকা আলমারি ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ঘেঁটে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডি অফিসাররা।কসবা এলাকার ত্রাস সোনা পাপ্পুকে জোর করে জমি দখল, অবৈধ নির্মাণ এবং আর্থিক তছরুপের গুরুতর অভিযোগে আগেই গ্রেফতার করেছিল ইডি। তাকে আড়াল করার এবং তোলাবাজির চক্র চালানোর অভিযোগে পরবর্তীতে জালে পোরা হয় প্রভাবশালী পুলিশকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও এক ব্যবসায়ীকে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের জাল শুধু পুলিশ বা প্রোমোটারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে রয়েছে এক মস্ত বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি। আজ জেরা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যে সব ডেরায় হানা দেওয়া হল, সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্য ও নথিপত্র এই মামলার মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার