সিউড়ি: এবার স্কুল পড়ুয়াদের পোশাক তৈরিকে কেন্দ্র করেও কাটমানি নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ সামনে এল। বীরভূমের সিউড়ি-১ ব্লকে তৃণমূল আমলের এই দুর্নীতির খতিয়ান সামনে আসতেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই সিউড়ি-১ ব্লকে স্কুল পোশাক তৈরিকে ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধছিল। সেই সময় স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা অভিযোগ তুলেছিলেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ থেকে তাঁদের সম্পূর্ণ বঞ্চিত করে বাইরে থেকে লোক এনে কাজ করানো হচ্ছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা বিডিও দফতরের সামনে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন। এবার সেই একই বঞ্চনা ও কাটমানির বিস্ফোরক অভিযোগ তাঁরা সিউড়ির নবনির্বাচিত বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে সবিস্তারে তুলে ধরেন। বিধায়ক কালবিলম্ব না করে বিডিও-কে এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কড়া পদক্ষেপ করার বার্তা দিয়েছেন।
অভিযোগকারী মহিলাদের দাবি, সরকারি ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্পের আওতায় তাঁরা স্কুলের পোশাক কাটা এবং সেলাইয়ের বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। সেই নিয়ম অনুযায়ী কাজ পাওয়ার কথা ছিল তাঁদেরই। কিন্তু অভিযোগ হল, মোটা অঙ্কের কাটমানি না দেওয়ায় তাঁদের কাজ হাতছাড়া হয়। তাঁদের আরও অভিযোগ, কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রথমে কাটমানি দাবি করা হয়েছিল, এবং সেই শর্ত মেনে নেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত তাঁরা কাজ পাননি। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরবর্তীতে মুর্শিদাবাদ থেকে কয়েকজন এজেন্টকে উড়িয়ে এনে এই কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলারা পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বিক্ষোভকারীদের পক্ষে অনুপমা মণ্ডল জানান, “আমরা সরকারি প্রশিক্ষণ নেওয়া সত্ত্বেও কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। অথচ বাইরে থেকে লোক এনে কাজ করানো হচ্ছে। এই চরম অন্যায়ের প্রতিবাদেই আমরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি।”
মহিলারা বিধায়কের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে সিউড়ি ব্লক প্রশাসন। ব্লকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগকারী মহিলাদের সমস্ত অভিযোগ লিখিত আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ জমা পড়লেই প্রশাসনের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তকারী দল (ইন্টারনাল ইনভেস্টিগেশন টিম) গঠন করে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে কাটমানি বা দুর্নীতির সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। তবে একই সঙ্গে ওই আধিকারিক এও জানান, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের পক্ষ থেকেও এই মহিলাদের বিরুদ্ধে কিছু পাল্টা অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রশাসন সবকটি দিক খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছবে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন