Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

৫ দিনেই ১ কোটি ফলোয়ার্স! ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অ্যাকাউন্ট ওড়াতেই ক্ষুব্ধ শশী, মোক্ষম চালের পরামর্শ বিরোধীদের

৫ দিনেই ১ কোটি ফলোয়ার্স! ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অ্যাকাউন্ট ওড়াতেই ক্ষুব্ধ শশী, মোক্ষম চালের পরামর্শ বিরোধীদের

নয়াদিল্লি: মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল তারা। অনুগামীর সংখ্যা এক ধাক্কায় ছুঁয়ে ফেলেছিল ১ কোটির গণ্ডি। কিন্তু এমন উল্কাসদৃশ উত্থান দেখেই কি শেষমেশ নেমে এলো নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া? ভারতে মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স (X)-এ সম্পূর্ণ ব্লক বা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হলো বহুল চর্চিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (CJP)-র অফিসিয়াল হ্যান্ডল। আর এই ঘটনা ঘিরেই এবার ভারতের বাক-স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল সেন্সরশিপ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়ে গেল। মোদী সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি গর্জে উঠে কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ শশী থারুর একে এক ‘ভয়াবহ এবং অত্যন্ত অবিবেচক সিদ্ধান্ত’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তবে নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও আরশোলারা যে দমে যাওয়ার পাত্র নয়, তা প্রমাণ করে ইতিমধ্যেই এক্স প্ল্যাটফর্মে ‘ককরোচ ইজ় ব্যাক’ নামে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলেছে তারা।


কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর এই অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বেকারত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যুবসমাজ চরম হতাশ, আর সেই কারণেই তাঁরা মূলধারার রাজনীতির বাইরে গিয়ে এমন একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে নিজেদের রাতারাতি একাত্ম করে ফেলেছেন। শশী থারুর স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন যে, যুবকদের এই হতাশার কারণ তিনি পুরোপুরি বুঝতে পারছেন এবং জনপ্রিয়তার ভয়ে এভাবে একটি ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া কোনো সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ হতে পারে না। তাঁর সাফ কথা, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে ভিন্নমত পোষণ করা, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে হাস্যরস, ব্যঙ্গ কিংবা ক্ষোভ প্রকাশের জায়গা থাকাটা একান্ত প্রয়োজন। তাই আরশোলাদের মুখ বন্ধ না করে অবিলম্বে সিজেপি-র অ্যাকাউন্টটি পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।


ডিজিটাল দুনিয়া কাঁপানো এই ‘আরশোলা’দের হাত ধরে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা সন্দিহান হলেও আশা হারাচ্ছেন না এই কংগ্রেস নেতা। তিনি মনে করেন, এই ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের পিছনে থাকা প্রতিভাবান তরুণরা যদি কোনোদিন মূল ধারার রাজনীতিতে পা রাখেন, তবে তাঁরা দেশের এক বড় পরিবর্তনের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারেন এবং তখন কোনো সরকারের পক্ষেই তাঁদের উপেক্ষা করা সম্ভব হবে না। এর পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের প্রতি এক মোক্ষম পরামর্শের সুরে শশী থারুর বলেন, এই আরশোলা পার্টির উত্থান আসলে যুবসমাজের ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ, আর একে যদি চতুরতার সাথে কাজে লাগানো যায় তবে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে দেশের বিরোধী দলগুলিই। উল্লেখ্য, এক্স-এ নিষিদ্ধ হলেও ইনস্টাগ্রামে (Instagram) কিন্তু এখনও রমরমিয়ে চলছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এবং সেখানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ফলোয়ার্স। এমনকি আমজনতার পাশাপাশি বলিউডের প্রথম সারির তারকারাও এখন প্রকাশ্যেই এদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন।


এই নজিরবিহীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র জন্মকাহিনীও কিন্তু কম চিত্তাকর্ষক নয়। সব কিছুর সূত্রপাত হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। একটি মামলার শুনানির সময়ে তিনি দেশের বেকার যুবকদের একাংশকে ‘ককরোচ’ (আরশোলা) এবং ‘প্যারাসাইট’ (পরজীবী)-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই মন্তব্যে দেশজুড়ে যুবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। আর সেই ক্ষোভকে হাতিয়ার করেই আমেরিকায় পড়াশোনা করা ভারতীয় ছাত্র অভিজিৎ দীপকে রাতারাতি অনলাইনে তৈরি করে ফেলেন এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি অবশ্য আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানিয়েছিলেন যে তাঁর ওই মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। আরশোলার সেই ডিজিটাল সেনা এখন খোদ দিল্লির রাতের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে।

বিষয় : cockroachjanataparty sashitharoor xaccountbanned cockroachisback

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


৫ দিনেই ১ কোটি ফলোয়ার্স! ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অ্যাকাউন্ট ওড়াতেই ক্ষুব্ধ শশী, মোক্ষম চালের পরামর্শ বিরোধীদের

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল তারা। অনুগামীর সংখ্যা এক ধাক্কায় ছুঁয়ে ফেলেছিল ১ কোটির গণ্ডি। কিন্তু এমন উল্কাসদৃশ উত্থান দেখেই কি শেষমেশ নেমে এলো নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া? ভারতে মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স (X)-এ সম্পূর্ণ ব্লক বা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হলো বহুল চর্চিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (CJP)-র অফিসিয়াল হ্যান্ডল। আর এই ঘটনা ঘিরেই এবার ভারতের বাক-স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল সেন্সরশিপ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়ে গেল। মোদী সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি গর্জে উঠে কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ শশী থারুর একে এক ‘ভয়াবহ এবং অত্যন্ত অবিবেচক সিদ্ধান্ত’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তবে নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও আরশোলারা যে দমে যাওয়ার পাত্র নয়, তা প্রমাণ করে ইতিমধ্যেই এক্স প্ল্যাটফর্মে ‘ককরোচ ইজ় ব্যাক’ নামে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলেছে তারা।কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর এই অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বেকারত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যুবসমাজ চরম হতাশ, আর সেই কারণেই তাঁরা মূলধারার রাজনীতির বাইরে গিয়ে এমন একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে নিজেদের রাতারাতি একাত্ম করে ফেলেছেন। শশী থারুর স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন যে, যুবকদের এই হতাশার কারণ তিনি পুরোপুরি বুঝতে পারছেন এবং জনপ্রিয়তার ভয়ে এভাবে একটি ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া কোনো সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ হতে পারে না। তাঁর সাফ কথা, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে ভিন্নমত পোষণ করা, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে হাস্যরস, ব্যঙ্গ কিংবা ক্ষোভ প্রকাশের জায়গা থাকাটা একান্ত প্রয়োজন। তাই আরশোলাদের মুখ বন্ধ না করে অবিলম্বে সিজেপি-র অ্যাকাউন্টটি পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।ডিজিটাল দুনিয়া কাঁপানো এই ‘আরশোলা’দের হাত ধরে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা সন্দিহান হলেও আশা হারাচ্ছেন না এই কংগ্রেস নেতা। তিনি মনে করেন, এই ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের পিছনে থাকা প্রতিভাবান তরুণরা যদি কোনোদিন মূল ধারার রাজনীতিতে পা রাখেন, তবে তাঁরা দেশের এক বড় পরিবর্তনের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারেন এবং তখন কোনো সরকারের পক্ষেই তাঁদের উপেক্ষা করা সম্ভব হবে না। এর পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের প্রতি এক মোক্ষম পরামর্শের সুরে শশী থারুর বলেন, এই আরশোলা পার্টির উত্থান আসলে যুবসমাজের ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ, আর একে যদি চতুরতার সাথে কাজে লাগানো যায় তবে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে দেশের বিরোধী দলগুলিই। উল্লেখ্য, এক্স-এ নিষিদ্ধ হলেও ইনস্টাগ্রামে (Instagram) কিন্তু এখনও রমরমিয়ে চলছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এবং সেখানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ফলোয়ার্স। এমনকি আমজনতার পাশাপাশি বলিউডের প্রথম সারির তারকারাও এখন প্রকাশ্যেই এদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন।এই নজিরবিহীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র জন্মকাহিনীও কিন্তু কম চিত্তাকর্ষক নয়। সব কিছুর সূত্রপাত হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। একটি মামলার শুনানির সময়ে তিনি দেশের বেকার যুবকদের একাংশকে ‘ককরোচ’ (আরশোলা) এবং ‘প্যারাসাইট’ (পরজীবী)-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই মন্তব্যে দেশজুড়ে যুবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। আর সেই ক্ষোভকে হাতিয়ার করেই আমেরিকায় পড়াশোনা করা ভারতীয় ছাত্র অভিজিৎ দীপকে রাতারাতি অনলাইনে তৈরি করে ফেলেন এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি অবশ্য আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানিয়েছিলেন যে তাঁর ওই মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। আরশোলার সেই ডিজিটাল সেনা এখন খোদ দিল্লির রাতের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার