Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

সিবিএসই-র নয়া ফতোয়া! নবমে ৩ ভাষা বাধ্যতামূলক করার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে অভিভাবকেরা

সিবিএসই-র নয়া ফতোয়া! নবমে ৩ ভাষা বাধ্যতামূলক করার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে অভিভাবকেরা
প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি: চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই নবম শ্রেণিতে তিনটি ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক করা হবে— সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসই-র এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও পড়ুয়ারা। মাত্র কয়েক দিন আগেই বোর্ডের তরফে জারি করা এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুক্রবার শীর্ষ আদালতের কড়া নাড়ল অভিভাবক মহল, যার জেরে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


সিবিএসই-র নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে এই বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষাটি যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে অভিভাবকদের পক্ষে মামলাটি লড়তে গিয়ে প্রখ্যাত আইনজীবী মুকুল রোহতাগি প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়ে যাওয়ার পর কীভাবে এত কম সময়ের মধ্যে এমন একটি বড় সিদ্ধান্ত ছাত্রছাত্রীদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যেতে পারে? প্রধান বিচারপতির কাছে আগামী সোমবার, ২৫ মে এই মামলার জরুরি শুনানির জোরালো অনুরোধ জানিয়ে প্রখ্যাত এই আইনজীবী সাফ বলেন, দেশের পড়ুয়ারা এমনিতেই বর্তমান পাঠ্যক্রমের বিশাল চাপে একপ্রকার মুহ্যমান হয়ে রয়েছে, তার ওপর হুট করে এভাবে সম্পূর্ণ নতুন একটি ভাষার বোঝা চাপিয়ে দিলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।


প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত অবশ্য অভিভাবকদের আবেদন গুরুত্ব সহকারে শুনে আশ্বাস দিয়েছেন যে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি সম্পন্ন হবে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রের জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এবং ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন-এর গাইডলাইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই গত ১৫ মে এই সার্কুলার জারি করেছিল সিবিএসই। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম শ্রেণির চূড়ান্ত মূল্যায়নে এই তিনটি ভাষার পরীক্ষাই নেওয়া হবে। অবশ্য স্বস্তির বিষয় এটুকুই ছিল যে দশম শ্রেণির মূল বোর্ড পরীক্ষায় এই তৃতীয় ভাষাটির পরীক্ষা দিতে হবে না।


বোর্ডের দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী, স্কুলগুলি তাদের পছন্দমতো যেকোনো ভাষা তৃতীয় ভাষা হিসেবে বেছে নিতে পারলেও, তার মধ্যে অন্তত দুটি ভারতীয় ভাষা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। যার ফলে ইংরেজিকে ‘বিদেশি’ ভাষা হিসেবে গণ্য করা হবে বলেই মনে করছিলেন শিক্ষক মহলের একাংশ। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছিল যে, এই তৃতীয় ভাষার পরীক্ষাটি স্কুল স্তরে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের মাধ্যমে নেওয়া হলেও, পরীক্ষায় পড়ুয়াদের প্রাপ্ত নম্বর কিন্তু সিবিএসই-র চূড়ান্ত শংসাপত্র বা মার্কশিটে সরাসরি প্রতিফলিত হবে। বোর্ডের এই নিয়মের জেরেই মূলত আতঙ্ক ছড়িয়েছে পড়ুয়াদের মনে, যার জল এবার গড়াল দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত।

বিষয় : cbse3rdlanguage supremecourtofindia studentmentalhealth

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


সিবিএসই-র নয়া ফতোয়া! নবমে ৩ ভাষা বাধ্যতামূলক করার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে অভিভাবকেরা

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই নবম শ্রেণিতে তিনটি ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক করা হবে— সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসই-র এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও পড়ুয়ারা। মাত্র কয়েক দিন আগেই বোর্ডের তরফে জারি করা এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুক্রবার শীর্ষ আদালতের কড়া নাড়ল অভিভাবক মহল, যার জেরে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।সিবিএসই-র নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে এই বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষাটি যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে অভিভাবকদের পক্ষে মামলাটি লড়তে গিয়ে প্রখ্যাত আইনজীবী মুকুল রোহতাগি প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়ে যাওয়ার পর কীভাবে এত কম সময়ের মধ্যে এমন একটি বড় সিদ্ধান্ত ছাত্রছাত্রীদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যেতে পারে? প্রধান বিচারপতির কাছে আগামী সোমবার, ২৫ মে এই মামলার জরুরি শুনানির জোরালো অনুরোধ জানিয়ে প্রখ্যাত এই আইনজীবী সাফ বলেন, দেশের পড়ুয়ারা এমনিতেই বর্তমান পাঠ্যক্রমের বিশাল চাপে একপ্রকার মুহ্যমান হয়ে রয়েছে, তার ওপর হুট করে এভাবে সম্পূর্ণ নতুন একটি ভাষার বোঝা চাপিয়ে দিলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত অবশ্য অভিভাবকদের আবেদন গুরুত্ব সহকারে শুনে আশ্বাস দিয়েছেন যে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি সম্পন্ন হবে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রের জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এবং ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন-এর গাইডলাইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই গত ১৫ মে এই সার্কুলার জারি করেছিল সিবিএসই। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম শ্রেণির চূড়ান্ত মূল্যায়নে এই তিনটি ভাষার পরীক্ষাই নেওয়া হবে। অবশ্য স্বস্তির বিষয় এটুকুই ছিল যে দশম শ্রেণির মূল বোর্ড পরীক্ষায় এই তৃতীয় ভাষাটির পরীক্ষা দিতে হবে না।বোর্ডের দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী, স্কুলগুলি তাদের পছন্দমতো যেকোনো ভাষা তৃতীয় ভাষা হিসেবে বেছে নিতে পারলেও, তার মধ্যে অন্তত দুটি ভারতীয় ভাষা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। যার ফলে ইংরেজিকে ‘বিদেশি’ ভাষা হিসেবে গণ্য করা হবে বলেই মনে করছিলেন শিক্ষক মহলের একাংশ। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছিল যে, এই তৃতীয় ভাষার পরীক্ষাটি স্কুল স্তরে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের মাধ্যমে নেওয়া হলেও, পরীক্ষায় পড়ুয়াদের প্রাপ্ত নম্বর কিন্তু সিবিএসই-র চূড়ান্ত শংসাপত্র বা মার্কশিটে সরাসরি প্রতিফলিত হবে। বোর্ডের এই নিয়মের জেরেই মূলত আতঙ্ক ছড়িয়েছে পড়ুয়াদের মনে, যার জল এবার গড়াল দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার