Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মোদীকে খাইয়েছিলেন ঝালমুড়ি, এবার পাকিস্তান-বাংলাদেশ থেকে ভিডিও কলে মারণ হুমকি ঝাড়গ্রামের বিক্রমকে!

মোদীকে খাইয়েছিলেন ঝালমুড়ি, এবার পাকিস্তান-বাংলাদেশ থেকে ভিডিও কলে মারণ হুমকি ঝাড়গ্রামের বিক্রমকে!
ছবি সংগৃহীত

ঝাড়গ্রাম: বিধানসভা নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ প্রচারের মাঝে জঙ্গলমহলে নিজের দোকান থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ঝালমুড়ি খাইয়ে রাতারাতি খবরের শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তাই যে তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্য এভাবে কাল হয়ে দাঁড়াবে, তা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেননি ঝাড়গ্রামের ওই হকার। এবার সরাসরি পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ভিডিও কলে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে সেই ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রমকুমার সাউকে খুনের হুমকি দেওয়ার এক মারাত্মক অভিযোগ সামনে এল। আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে একের পর এক আসা এই ক্রমাগত হুমকির জেরে আতঙ্কে সপরিবারে ঘরছাড়া হয়েছেন ওই বিক্রেতা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জঙ্গলমহল জুড়ে তীব্র আলোড়ন ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।


চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল এ রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনী প্রচারে জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রামে এক মেগা জনসভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সভা শেষে তাঁর কনভয় যখন ফিরছিল, তখন আচমকাই গাড়ি থেকে নেমে ঝাড়গ্রাম শহরের রাজ কলেজ মোড়ের বাসিন্দা বিক্রমকুমার সাউয়ের সাধারণ ঝালমুড়ির দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দাঁড়িয়ে নিজের হাতে বিক্রমের তৈরি ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন তিনি। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এত কাছ থেকে দেখে এবং নিজের তৈরি ঝালমুড়ি খাইয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন বিক্রম। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতিতে মোদীর এই ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনা সে সময় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। পরবর্তীতে জঙ্গলমহল-সহ রাজ্য জুড়ে বিপুল ভোটে জিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করে বাংলায় সরকার গঠন করেছে বিজেপি। কিন্তু রাজনৈতিক এই পালাবদলের পরেই আকস্মিক এই আন্তর্জাতিক হুমকির মুখে পড়লেন বিক্রম।


অভিযোগ অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে বিক্রমের ব্যক্তিগত মোবাইলে দেশি ও বিদেশি নম্বর থেকে অনবরত মেসেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ কল আসা শুরু হয়। এমনকি আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে ভিডিও কল করে সরাসরি ওয়ান-শটার ও অন্যান্য মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে সপরিবারে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই হুমকি কলগুলির বেশিরভাগই এসেছে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সক্রিয় কিছু নম্বর থেকে। এই ঘটনার পর থেকেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বিক্রম। প্রাণভয়ে ইতিমধ্যেই রাজ কলেজ মোড়ের দোকানপাট পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে তিনি পরিবার নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপন করতে বাধ্য হয়েছেন।


পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষপর্যন্ত ঝাড়গ্রাম থানায় গিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আন্তর্জাতিক দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী বিক্রমকুমার সাউ। ঘটনার সংবেদনশীলতা বিচার করে জেলা পুলিশের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞরাও এই মামলার তদন্তে নেমে পড়েছেন। যে সমস্ত নির্দিষ্ট নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল ও মেসেজ পাঠানো হয়েছিল, সেগুলির আইপি (IP) অ্যাড্রেস এবং টাওয়ার লোকেশন ট্রেস করার কাজ শুরু হয়েছে। কোনো গভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত বা আন্তর্জাতিক জঙ্গি মডিউল এর পিছনে কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। এদিকে বিক্রম ও তাঁর পরিবারের সুরক্ষার্থে প্রশাসনের তরফে তাঁর বাসভবনের বাইরে কড়া পুলিশি মোতায়েন করা হয়েছে।

বিষয় : JHARGRAMNEWS PMMODI CYBERCRIME

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


মোদীকে খাইয়েছিলেন ঝালমুড়ি, এবার পাকিস্তান-বাংলাদেশ থেকে ভিডিও কলে মারণ হুমকি ঝাড়গ্রামের বিক্রমকে!

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image
ঝাড়গ্রাম: বিধানসভা নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ প্রচারের মাঝে জঙ্গলমহলে নিজের দোকান থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ঝালমুড়ি খাইয়ে রাতারাতি খবরের শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তাই যে তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্য এভাবে কাল হয়ে দাঁড়াবে, তা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেননি ঝাড়গ্রামের ওই হকার। এবার সরাসরি পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ভিডিও কলে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে সেই ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রমকুমার সাউকে খুনের হুমকি দেওয়ার এক মারাত্মক অভিযোগ সামনে এল। আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে একের পর এক আসা এই ক্রমাগত হুমকির জেরে আতঙ্কে সপরিবারে ঘরছাড়া হয়েছেন ওই বিক্রেতা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জঙ্গলমহল জুড়ে তীব্র আলোড়ন ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল এ রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনী প্রচারে জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রামে এক মেগা জনসভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সভা শেষে তাঁর কনভয় যখন ফিরছিল, তখন আচমকাই গাড়ি থেকে নেমে ঝাড়গ্রাম শহরের রাজ কলেজ মোড়ের বাসিন্দা বিক্রমকুমার সাউয়ের সাধারণ ঝালমুড়ির দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দাঁড়িয়ে নিজের হাতে বিক্রমের তৈরি ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন তিনি। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এত কাছ থেকে দেখে এবং নিজের তৈরি ঝালমুড়ি খাইয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন বিক্রম। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতিতে মোদীর এই ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনা সে সময় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। পরবর্তীতে জঙ্গলমহল-সহ রাজ্য জুড়ে বিপুল ভোটে জিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করে বাংলায় সরকার গঠন করেছে বিজেপি। কিন্তু রাজনৈতিক এই পালাবদলের পরেই আকস্মিক এই আন্তর্জাতিক হুমকির মুখে পড়লেন বিক্রম।অভিযোগ অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে বিক্রমের ব্যক্তিগত মোবাইলে দেশি ও বিদেশি নম্বর থেকে অনবরত মেসেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ কল আসা শুরু হয়। এমনকি আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে ভিডিও কল করে সরাসরি ওয়ান-শটার ও অন্যান্য মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে সপরিবারে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই হুমকি কলগুলির বেশিরভাগই এসেছে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সক্রিয় কিছু নম্বর থেকে। এই ঘটনার পর থেকেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বিক্রম। প্রাণভয়ে ইতিমধ্যেই রাজ কলেজ মোড়ের দোকানপাট পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে তিনি পরিবার নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপন করতে বাধ্য হয়েছেন।পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষপর্যন্ত ঝাড়গ্রাম থানায় গিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আন্তর্জাতিক দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী বিক্রমকুমার সাউ। ঘটনার সংবেদনশীলতা বিচার করে জেলা পুলিশের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞরাও এই মামলার তদন্তে নেমে পড়েছেন। যে সমস্ত নির্দিষ্ট নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল ও মেসেজ পাঠানো হয়েছিল, সেগুলির আইপি (IP) অ্যাড্রেস এবং টাওয়ার লোকেশন ট্রেস করার কাজ শুরু হয়েছে। কোনো গভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত বা আন্তর্জাতিক জঙ্গি মডিউল এর পিছনে কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। এদিকে বিক্রম ও তাঁর পরিবারের সুরক্ষার্থে প্রশাসনের তরফে তাঁর বাসভবনের বাইরে কড়া পুলিশি মোতায়েন করা হয়েছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার