Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘মা-বাবা IAS হলেও সন্তানের কোটা চাই কেন?’ সংরক্ষণ ও ‘ক্রিমি লেয়ার’ নিয়ে বড় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের!

‘মা-বাবা IAS হলেও সন্তানের কোটা চাই কেন?’ সংরক্ষণ ও ‘ক্রিমি লেয়ার’ নিয়ে বড় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের!
প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি: দেশে জাতিগত সংরক্ষণ ও সামাজিক গতিশীলতা (Social Mobility) নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দূরগামী পর্যবেক্ষণ রাখল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত সাফ প্রশ্ন তুলেছে, যে পরিবারগুলি সংরক্ষণের সুবাদে ইতিমধ্যেই শিক্ষাগত, সামাজিক ও আর্থিক সাফল্য অর্জন করে ফেলেছে, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রেও ক্রমাগত এই কোটার সুবিধা পাওয়ার কী যৌক্তিকতা রয়েছে?


অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) অন্তর্ভুক্ত ‘ক্রিমি লেয়ার’ অর্থাৎ আর্থিক ও সামাজিকভাবে সচ্ছল অংশের সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সরাসরি উদাহরণ টেনে প্রশ্ন তোলে, “যদি কোনও শিশুর মা-বাবা দুজনেই আইএএস অফিসার হন, তবে সেই সন্তানের জন্য নতুন করে সংরক্ষণের কী প্রয়োজন?”


শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বি ভি নাগারত্নর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ উল্লেখ করে, শিক্ষাগত ও আর্থিক ক্ষমতায়নই আসলে সমাজে প্রকৃত অগ্রগতি আনে। কিন্তু, সেই স্তরে পৌঁছে যাওয়ার পরেও যদি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষণ দাবি করা হতে থাকে, তবে দেশ কখনও এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না। বিচারপতি নাগারত্ন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই পড়ুয়াদের অভিভাবকদের ভালো চাকরি রয়েছে, তাঁরা ভালো আয় করেন। তারপরও সন্তানরা সংরক্ষণ চাইছে। তাদের এই সংরক্ষণের সিস্টেম থেকে বেরোতে হবে। কোথাও একটা ভারসাম্য থাকা উচিত।”


শীর্ষ আদালত আরও মনে করিয়ে দেয়, একাধিক সরকারি অর্ডারে ইতিমধ্যেই অনগ্রসর শ্রেণির এই ধরনের অগ্রসর বা সচ্ছল অংশগুলিকে সংরক্ষণের আওতা থেকে বাদ দেওয়ার আইনি বিধান রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সেই বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তগুলিকেই বারবার আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পরিবারগুলি যখন সংরক্ষণের সুবিধার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের একটি নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছে যায়, তখন পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রে এই যোগ্যতার একটি পুনঃমূল্যায়ন হওয়া আবশ্যক।


এর পাশাপাশি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি (EWS) এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির (SC/ST/OBC) মধ্যেকার সূক্ষ্ম পার্থক্যের কথাও মনে করিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি নাগারত্ন বলেন, “আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ক্ষেত্রে কোনও সামাজিক অনগ্রসরতা থাকে না, সেখানে কেবল আর্থিক অনগ্রসরতাই একমাত্র মাপকাঠি।” এই গোটা বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ একটি নোটিস জারি করেছে এবং মামলার সঙ্গে জড়িত সমস্ত পক্ষকে তাদের লিখিত প্রতিক্রিয়া ও মতামত জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর দেশজুড়ে সংরক্ষণ নীতি এবং ‘ক্রিমি লেয়ার’ বাদ দেওয়ার বিতর্ক যে নতুন করে দানা বাঁধবে, তা বলাই বাহুল্য।

বিষয় : SupremeCourt reservationdebate creamylayer iasofficers

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


‘মা-বাবা IAS হলেও সন্তানের কোটা চাই কেন?’ সংরক্ষণ ও ‘ক্রিমি লেয়ার’ নিয়ে বড় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের!

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: দেশে জাতিগত সংরক্ষণ ও সামাজিক গতিশীলতা (Social Mobility) নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দূরগামী পর্যবেক্ষণ রাখল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত সাফ প্রশ্ন তুলেছে, যে পরিবারগুলি সংরক্ষণের সুবাদে ইতিমধ্যেই শিক্ষাগত, সামাজিক ও আর্থিক সাফল্য অর্জন করে ফেলেছে, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রেও ক্রমাগত এই কোটার সুবিধা পাওয়ার কী যৌক্তিকতা রয়েছে?অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) অন্তর্ভুক্ত ‘ক্রিমি লেয়ার’ অর্থাৎ আর্থিক ও সামাজিকভাবে সচ্ছল অংশের সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সরাসরি উদাহরণ টেনে প্রশ্ন তোলে, “যদি কোনও শিশুর মা-বাবা দুজনেই আইএএস অফিসার হন, তবে সেই সন্তানের জন্য নতুন করে সংরক্ষণের কী প্রয়োজন?”শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বি ভি নাগারত্নর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ উল্লেখ করে, শিক্ষাগত ও আর্থিক ক্ষমতায়নই আসলে সমাজে প্রকৃত অগ্রগতি আনে। কিন্তু, সেই স্তরে পৌঁছে যাওয়ার পরেও যদি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষণ দাবি করা হতে থাকে, তবে দেশ কখনও এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না। বিচারপতি নাগারত্ন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই পড়ুয়াদের অভিভাবকদের ভালো চাকরি রয়েছে, তাঁরা ভালো আয় করেন। তারপরও সন্তানরা সংরক্ষণ চাইছে। তাদের এই সংরক্ষণের সিস্টেম থেকে বেরোতে হবে। কোথাও একটা ভারসাম্য থাকা উচিত।”শীর্ষ আদালত আরও মনে করিয়ে দেয়, একাধিক সরকারি অর্ডারে ইতিমধ্যেই অনগ্রসর শ্রেণির এই ধরনের অগ্রসর বা সচ্ছল অংশগুলিকে সংরক্ষণের আওতা থেকে বাদ দেওয়ার আইনি বিধান রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সেই বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তগুলিকেই বারবার আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পরিবারগুলি যখন সংরক্ষণের সুবিধার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের একটি নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছে যায়, তখন পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রে এই যোগ্যতার একটি পুনঃমূল্যায়ন হওয়া আবশ্যক।এর পাশাপাশি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি (EWS) এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির (SC/ST/OBC) মধ্যেকার সূক্ষ্ম পার্থক্যের কথাও মনে করিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি নাগারত্ন বলেন, “আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ক্ষেত্রে কোনও সামাজিক অনগ্রসরতা থাকে না, সেখানে কেবল আর্থিক অনগ্রসরতাই একমাত্র মাপকাঠি।” এই গোটা বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ একটি নোটিস জারি করেছে এবং মামলার সঙ্গে জড়িত সমস্ত পক্ষকে তাদের লিখিত প্রতিক্রিয়া ও মতামত জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর দেশজুড়ে সংরক্ষণ নীতি এবং ‘ক্রিমি লেয়ার’ বাদ দেওয়ার বিতর্ক যে নতুন করে দানা বাঁধবে, তা বলাই বাহুল্য।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার