Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

কোন্ননগরে চলল বুলডোজার! নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বেআইনি টোল গেট গুঁড়িয়ে দিলেন বিধায়ক দীপাঞ্জন

কোন্ননগরে চলল বুলডোজার! নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বেআইনি টোল গেট গুঁড়িয়ে দিলেন বিধায়ক দীপাঞ্জন
প্রতীকী ছবি

কোন্ননগর: রাজ্যে সমস্ত অবৈধ টোল প্লাজা এবং টোল গেট বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে নতুন সরকার। আর, সেই সরকারি নির্দেশিকা জারির পরেই হুগলির কোন্ননগরে দেখা গেল এক বেনজির দৃশ্য। কোন্ননগর রেল স্টেশনের আন্ডারপাসে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি অবৈধ টোল গেট নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলেন উত্তরপাড়ার নবনির্বাচিত বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। শুক্রবারের এই ঘটনা কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।


প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০০ সালে রেল এবং রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই আন্ডারপাসটি তৈরি হয়েছিল। তবে যে জায়গার ওপর আন্ডারপাসটি অবস্থিত, সেটি মূলত জেলা পরিষদের। পরবর্তীকালে আন্ডারপাসের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কোন্ননগর পুরসভাকে। অভিযোগ, বিগত ২০০৮ সাল থেকে সেখানে বাণিজ্যিক গাড়ি থেকে টোল আদায়ের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে লিজ বা বরাত দেয় পুরসভা। তারপর থেকেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে চারচাকার গাড়ি পিছু ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ টাকা পর্যন্ত টোল ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছিল।


উত্তরপাড়ার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পরেই এই টোল আদায়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। তিনি পুরসভার কাছ থেকে টোল আদায়ের অনুমতি সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র ও কাগজপত্র চেয়ে পাঠান। কিন্তু অভিযোগ, পুরসভা এর স্বপক্ষে কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেনি। এরপরই বিধায়ক তৎক্ষণাৎ পুলিশকে ওই আন্ডারপাসে টোল আদায় বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং শুক্রবার নিজেই বুলডোজার নিয়ে সশরীরে পৌঁছে যান কোন্ননগরের ওই টোল গেটে। চোখের পলকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় টোল আদায়ের অফিসটি।


সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “কোন্ননগরের এই টোল গেটের কোনও বৈধ অনুমোদন ছিল না। ২০০৮ সালে যে লিজ দেওয়া হয়েছিল, তারপর থেকে আর কোনও অনুমোদনপত্র রিনিউ বা নবীকরণ করা হয়নি।” এলাকায় কোনও রকমের অবৈধ কাজ বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “উত্তরপাড়া বিধানসভাকেন্দ্রে এই তো মাত্র শুরু হল। আগামী দিনে বেআইনি পার্টি অফিস হোক বা বেআইনি বাড়ি — সবার বিরুদ্ধেই এইরকম কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের এই কড়া নির্দেশের পর কোন্ননগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস অবশ্য কিছুটা ভিন্ন সুর চড়িয়েছেন। তিনি জানান, বেআইনি টোল গেট বন্ধের নির্দেশ আসতেই তাঁরা জেলা পরিষদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। স্বপনের কথায়, “জেলা পরিষদের কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম এই বিষয়ে লিখিত কোনও নির্দেশিকা আছে কিনা। কিন্তু এখনও আমরা কোনও চিঠি পাইনি।” এর পাশাপাশি এই টোল গেট থেকে পুরসভার ভালো আয় হতো দাবি করে তিনি বলেন, “২০২২ সাল পর্যন্ত এই টোল থেকে পুরসভা বছরে ১২ হাজার টাকা করে পেত। গত তিন বছরে আমরা সেটা বাড়িয়ে বার্ষিক ৫০ হাজার টাকা করেছিলাম।” তবে পুরসভার আয়ের যুক্তি খারিজ করে আমজনতার সুবিধার্থে এই বেআইনি উচ্ছেদ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিষয় : BULLDOZERACTION konnanagarnews dipanjanchakraborty hooglypolitics

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


কোন্ননগরে চলল বুলডোজার! নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বেআইনি টোল গেট গুঁড়িয়ে দিলেন বিধায়ক দীপাঞ্জন

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image
কোন্ননগর: রাজ্যে সমস্ত অবৈধ টোল প্লাজা এবং টোল গেট বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে নতুন সরকার। আর, সেই সরকারি নির্দেশিকা জারির পরেই হুগলির কোন্ননগরে দেখা গেল এক বেনজির দৃশ্য। কোন্ননগর রেল স্টেশনের আন্ডারপাসে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি অবৈধ টোল গেট নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলেন উত্তরপাড়ার নবনির্বাচিত বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। শুক্রবারের এই ঘটনা কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০০ সালে রেল এবং রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই আন্ডারপাসটি তৈরি হয়েছিল। তবে যে জায়গার ওপর আন্ডারপাসটি অবস্থিত, সেটি মূলত জেলা পরিষদের। পরবর্তীকালে আন্ডারপাসের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কোন্ননগর পুরসভাকে। অভিযোগ, বিগত ২০০৮ সাল থেকে সেখানে বাণিজ্যিক গাড়ি থেকে টোল আদায়ের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে লিজ বা বরাত দেয় পুরসভা। তারপর থেকেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে চারচাকার গাড়ি পিছু ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ টাকা পর্যন্ত টোল ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছিল।উত্তরপাড়ার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পরেই এই টোল আদায়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। তিনি পুরসভার কাছ থেকে টোল আদায়ের অনুমতি সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র ও কাগজপত্র চেয়ে পাঠান। কিন্তু অভিযোগ, পুরসভা এর স্বপক্ষে কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেনি। এরপরই বিধায়ক তৎক্ষণাৎ পুলিশকে ওই আন্ডারপাসে টোল আদায় বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং শুক্রবার নিজেই বুলডোজার নিয়ে সশরীরে পৌঁছে যান কোন্ননগরের ওই টোল গেটে। চোখের পলকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় টোল আদায়ের অফিসটি।সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “কোন্ননগরের এই টোল গেটের কোনও বৈধ অনুমোদন ছিল না। ২০০৮ সালে যে লিজ দেওয়া হয়েছিল, তারপর থেকে আর কোনও অনুমোদনপত্র রিনিউ বা নবীকরণ করা হয়নি।” এলাকায় কোনও রকমের অবৈধ কাজ বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “উত্তরপাড়া বিধানসভাকেন্দ্রে এই তো মাত্র শুরু হল। আগামী দিনে বেআইনি পার্টি অফিস হোক বা বেআইনি বাড়ি — সবার বিরুদ্ধেই এইরকম কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের এই কড়া নির্দেশের পর কোন্ননগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস অবশ্য কিছুটা ভিন্ন সুর চড়িয়েছেন। তিনি জানান, বেআইনি টোল গেট বন্ধের নির্দেশ আসতেই তাঁরা জেলা পরিষদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। স্বপনের কথায়, “জেলা পরিষদের কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম এই বিষয়ে লিখিত কোনও নির্দেশিকা আছে কিনা। কিন্তু এখনও আমরা কোনও চিঠি পাইনি।” এর পাশাপাশি এই টোল গেট থেকে পুরসভার ভালো আয় হতো দাবি করে তিনি বলেন, “২০২২ সাল পর্যন্ত এই টোল থেকে পুরসভা বছরে ১২ হাজার টাকা করে পেত। গত তিন বছরে আমরা সেটা বাড়িয়ে বার্ষিক ৫০ হাজার টাকা করেছিলাম।” তবে পুরসভার আয়ের যুক্তি খারিজ করে আমজনতার সুবিধার্থে এই বেআইনি উচ্ছেদ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার