কলকাতা: টলিপাড়ার দাপুটে নেতা তথা ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এবার আর্থিক তোলাবাজি ও হেনস্থার মতো বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ওপার বাংলার এক নামী চলচ্চিত্র প্রযোজক। ওপার বাংলার 'সুপারস্টার' শাকিব খানের নতুন ছবি 'প্রিন্স'-এর প্রযোজক শিরিন সুলতানা সরাসরি অভিযোগ এনেছেন স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, কলকাতায় শুটিং করার জন্য ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তাঁর কাছ থেকে রীতিমতো জোর খাটিয়ে কয়েক কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে!
শাকিব খান অভিনীত 'প্রিন্স' ছবিটির সিংহভাগ শুটিংই হয়েছে কলকাতায়। এই ছবিতে ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিন ও টলিউডের নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর সঙ্গে জুটি বাঁধতে দেখা গিয়েছে শাকিব খানকে। ছবিটির শুটিং শুরুর দিনগুলির ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রযোজক শিরিন সুলতানা জানান, তাঁরা যখন কলকাতায় 'প্রিন্স' ছবির শুটিং করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন, তখন সাবিত্রী গুহ নামে এক অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (এডি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই বন্ধুই তাঁদের জানান, কলকাতায় সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে গেলে টলিউড ফেডারেশনের প্রধান স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা বাধ্যতামূলক।
শিরিন সুলতানার অভিযোগ, সেই মতো তাঁরা স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও প্রথম দিকে তিনি কোনও উচ্চবাচ্য করেননি। এমনকী, এক রবিবার তাঁদের অফিসে ডেকে এনে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখলেও কোনও স্পষ্ট আলোচনা করেননি বা কত টাকা দিতে হবে তারও খতিয়ান দেননি। এর মাঝে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বা রাজনৈতিকস্তরে কিছু সমস্যা তৈরি হওয়ায় তাঁরা সাময়িকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। তবে ওই অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত কথা হচ্ছিল এবং তিনি বারবার আশ্বস্ত করছিলেন যে একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে, তাঁরা যেন শুটিং শুরু করে দেন।
কিন্তু, আসল বিপত্তি ঘটে শুটিং শুরু হওয়ার পর। প্রযোজকের দাবি, পরিস্থিতি সামান্য মিটমাট হতেই স্বরূপ বিশ্বাস তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং একলপ্তে সমস্ত টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। যার অঙ্কটা ছিল আকাশছোঁয়া — প্রায় কয়েক কোটি টাকা! শিরিন সুলতানা বলেন, "একবারে এতগুলো টাকা আমরা দেব কী করে? নিরুপায় হয়ে ওনার সামনেই আমি হাউ হাউ করে কাঁদতে থাকি। কিন্তু ওনার মন গলেনি। সেই সময় অন্য কোথাও নতুন করে শুটিং সেট ফেলার মতো পরিস্থিতি বা ক্ষমতা আমাদের ছিল না। উনি রীতিমতো বাধ্য করেছিলেন ওই বিপুল টাকা দিতে। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, টাকা না দিলে শুটিং চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে।" বাধ্য হয়েই সেই টাকা দিতে হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। আজ দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় টলিপাড়ার এই সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই টলিউডে 'বিশ্বাস ব্রাদার্স' অর্থাৎ রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের একচ্ছত্র 'দাদাগিরি' এবং থ্রেট কালচার নিয়ে একের পর এক টলিউড পরিচালক, প্রযোজক ও টেকনিশিয়ান সরব হয়েছেন। এবার সেই একই অভিযোগের তির ধেয়ে এল ওপার বাংলা থেকেও! যা টলিপাড়ার অন্দরের ক্ষমতার রাজনীতিকে আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দাঁড় করাল।
#TollywoodSyndicate, #BangladeshCinema, #KolkataNews

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন